শ্রীলঙ্কাতে সরে যেতে পারে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচ। এর পেছনে বাংলাদেশ-ভারত রাজনৈতিক অস্থির সম্পর্কের প্রভাব থাকলেও কার্যত লাভবান হবে বাংলাদেশ দলই।
বাংলাদেশের ক্রিকেট মানেই ধীরগতির উইকেট, স্পিনারদের আধিপত্য আর বোলারদের দাপট। ঘরের মাঠে বড় রানের ম্যাচ খুব কমই দেখা যায়। শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনও অনেকটা একই রকম। সেখানকার উইকেট সাধারণত স্পিন সহায়ক, যা বাংলাদেশের শক্তির জায়গার সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই।
শ্রীলঙ্কায় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো হবে কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম, সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ড এবং ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে—তিনটিই স্পিন-বান্ধব হিসেবে পরিচিত। আর বাংলাদেশের দলে যে মানসম্পন্ন স্পিনারের কোনো অভাব নেই, সেটাই এখানে বড় শক্তি।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে। অর্থাৎ গ্রুপ পর্বের মাঝেই দীর্ঘ ভ্রমণের চাপ। কিন্তু ম্যাচগুলো যদি শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়, তাহলে আইসিসি চাইলে একটি নির্দিষ্ট ভেন্যুতেই বাংলাদেশের সব ম্যাচ নির্ধারণ করতে পারে। যা বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের ভ্রমণ ক্লান্তিও দূর করবে।
গত এশিয়া কাপ এর আগে বাংলাদেশ দল শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিল। সেই সিরিজে লিটন দাসের দল স্বাগতিকদের বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে শিরোপা জয় করে। সেই স্মৃতি এখনো টাটকা।
পরিসংখ্যান বলছে, টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কার মাটিতেই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি রেকর্ড সবচেয়ে ভালো। ফলে একই পরিবেশে আবার বিশ্বমঞ্চে নামলে, মানসিক দিক থেকেও দলটি থাকবে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।
সব মিলিয়ে, ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যদি বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তন করে শ্রীলঙ্কায় নির্ধারণ করা হয় তাহলে কন্ডিশন, ভ্রমণ ক্লান্তি থেকে রেহাই ও আত্মবিশ্বাস, সব দিক থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আরও ‘শক্তিশালী’ হয়েই মাঠে নামতে পারবে।











