বাংলাদেশ ক্রিকেটের সম্ভাবনার একটা নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। বিশেষ করে সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে। ওপেনিং নিয়ে যে দুশ্চিন্তা এতদিন ধরে বাংলাদেশকে পুড়িয়েছে, সেই দুশ্চিন্তার সমাধান উঁকি দিতে শুরু করেছে। আর সেই সমাধানের দিশারী হয়ে হাজির হয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন।
এই দুইজনে এখন অবধি ১১ ম্যাচে জুটি গড়ার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের পক্ষে। এই সময়ে ২৫৪ রানের জুটি গড়েছেন তারা দুইজনে। তবে লম্বা উদ্বোধনী জুটি ছাপিয়ে এই দুইজনের একজন প্রায় প্রতি ম্যাচেই জ্বলে উঠছেন। টাইগারদের এনে দিচ্ছেন উড়ন্ত সূচনা।
আজ তামিম ব্যর্থ হলে, ইমন খেলে ফেলেন কার্যকর ইনিংস। আবার ইমন ব্যর্থ হলে দলের উড়ন্ত শুরুর দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন তামিম। গেল বছরের অক্টোবরে ওপেনিংয়ের যাত্রা শুরু তামিম-ইমন জুটির। এরই মধ্যে পারভেজ দুইটি ফিফটি সহ একটি সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে গেছেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে।

অন্যদিকে তামিমের ঝুলিতে আছে দুইটি হাফ সেঞ্চুরি। ১১ ম্যাচের মধ্যে পাঁচ ম্যাচেই কোন না কোন ওপেনার পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলেছেন। এই বিষয়টি ভীষণ ইতিবাচক বাংলাদেশের জন্যে। কেননা এই দুইজন ব্যাটারই বেশ আগ্রাসী। এদের মধ্যে কেউ একজন দাঁড়িয়ে গেলে রানের চাকা থমকে যায় না।
এছাড়াও ছক্কা হাঁকানোর দারুণ দক্ষতা বাংলাদেশের সম্ভাবনার প্রদীপে জ্বালানির জোগান দিচ্ছে। চলতি বছরে দশ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এই দুইজনে মিলে ৪৬টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। সর্বোচ্চ ছক্কার তালিকায় উপরে রয়েছেন তানজিদ তামিম। পারভেজ হোসেন ইমন আছেন দ্বিতীয় অবস্থানে।
যদিও ইমন-তামিমদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবুও এই মুহূর্তে বাংলাদেশের এই ওপেনিং জুটিটা বিশ্বের অন্যতম সেরা বলা যায়। তাদের কল্যাণেই তো টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক বাংলাদেশ। গোটা দলের ঝুলিতে আছে ৮৮টি ছক্কা। স্রেফ ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান এটি।

অতএব তামিম-ইমন জুটি যে ইতিবাচকতা বয়ে নিয়ে আসছেন সেটা অনায়াসে বলে দেওয়া যায়। তবে তাদের উপর একটু ভরসা করতে হবে। তারা হয়ত সামনের দিনগুলোতে ব্যর্থ হতে পারেন। তখন অন্তত সমালোচনার বাণের জলে ভাসিয়ে দেওয়া যাবে না তাদের ভেলায় চড়িয়ে। বরং খুঁটি গেড়ে তাদেরকে সমর্থন জুগিয়ে যেতে হবে। লম্বা সময়ের জন্যে দিতে হবে সুযোগ।











