যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে…

তানজিম হাসান সাকিব লড়াকু ক্রিকেটার। তিনি হৃদয় দিয়ে খেলেন। তাঁর শরীরের ভাষা, তাঁর প্রতিটা চেষ্টা চালিত হয় হৃদয় দিয়ে। সেই বিরাট হৃদয়ের আরেকটা লড়াই মঞ্চস্থ হল আবুধাবিতে।

তানজিম হাসান সাকিব লড়াকু ক্রিকেটার। তিনি হৃদয় দিয়ে খেলেন। তাঁর শরীরের ভাষা, তাঁর প্রতিটা চেষ্টা চালিত হয় হৃদয় দিয়ে। সেই বিরাট হৃদয়ের আরেকটা লড়াই মঞ্চস্থ হল আবুধাবিতে।

বাংলাদেশের তরুণ এই পেসার আবারও প্রমাণ করলেন—মাঠে সবটুকু উজাড় করে দেন তিনি। প্রথম স্পেলে দুর্দান্ত গতি ও সুইংয়ে আফগান টপ-অর্ডারকে চাপে রাখেন সাকিব। একের পর এক নিখুঁত ডেলিভারিতে বারবার বিপদে ফেলেন ইব্রাহিম জাদরান ও রহমানুল্লাহ গুরবাজকে। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে সহায়তা পাননি অন্য পেসারদের কাছ থেকে।

পুরো ইনিংস জুড়ে নিজের প্রাণপাত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছিলেন এই ডানহাতি পেসার। তবে দলের বাকি সদস্যদের কাছ থেকে সেই সমর্থনটা পাননি, যেটা এমন পারফরম্যান্সকে জয় এনে দিতে পারে।

সেদিকুল্লাহ অটল আর রহমত শাহ-কে সাজঘরে ফেরান তিনি। এর পরের ওভারেই রহমানুল্লাহ গুরবাজকে হারায় আফগানিস্তান। ওই সময় আরেকটু চাপে প্রতিপক্ষকে ফেলতে পারলে লড়াই জমে যেতে পারত। ম্যাচ জমিয়ে তোলার চেষ্টা তিনি একাই করে গেছেন, শেষ বেলায় যখন আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে ফেরান সাজঘরে, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

তানজিম সাকিব বল হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন ম্যাচ, ধারাবাহিকভাবে লাইন-লেন্থ ধরে রেখে ব্যাটারদের বিপদে ফেলেন। কিন্তু অন্য প্রান্তে সঙ্গী পেসারদের অনিয়মিত বোলিং ও ব্যাটারদের ব্যর্থতা শেষ পর্যন্ত তার সব পরিশ্রম বৃথা করে দেয়। ব্যাট হাতেও ১৭ রান করে গেছেন। বোর্ডে মাত্র ২২১ রান জমা করে বাংলাদেশ, সাকিব চাইলে ব্যাটারদেরও কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেই পারেন।

কি নি:সঙ্গ এক লড়াই! দলের ভরসা হয়ে উঠলেও জয় ছিনিয়ে আনতে পারেননি তানজিম। তানজিম সাকিবের ডাকে কেউ আসে, তিনি একাই চলেছেন, পারফরম করেছেন, কিন্তু ক্রিকেট যে দিনশেষে দলগত খেলা। তানজিম সাকিবদের এমন পারফরম্যান্স তাই শুধু আক্ষেপই বাড়ায় বারবার।

Share via
Copy link