নিজের দিনে সৌম্য সব পারেন

আগের ম্যাচে ৮৯ বল খেলে করেছিলেন ৪৫ রান। এভাবে ব্যাট করা সৌম্যর কাজ নয়। এবার মিরপুরে তাঁকে দিয়ে সেই কাজটাই করানো হল, যেটা তিনি পারেন। আর নিজের কাজে, নিজের দিনে সৌম্য সরকার চাইলে সব করতে পারেন।

ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ! হতাশায় ভেঙে পড়লেন সৌম্য সরকার। মাঠে দাঁড়িয়ে রইলেন কিছুক্ষণ—ভাঙা মন, নিঃশব্দ যন্ত্রণা নিয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবির উল্লাসে মেতে উঠলেও, সৌম্যর মুখে শুধু আক্ষেপের ছাপ। সেটাই হওয়ার কথা, সৌম্যর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় সেঞ্চুরি হতে পারত এই ইনিংস। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত হল না।

অফ স্টাম্পের বাইরে হালকা লুপ করা বল, মারতে গিয়েছিলেন বড় শট—কিন্তু ঠিকঠাক সংযোগ হয়নি। চোখ দিয়ে অনুসরণ করছিলেন বলটিকে, হয়তো প্রার্থনাও করছিলেন — যেন ক্যাচ না হয়। কিন্তু তাঁর প্রার্থনা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডার পর্যন্ত পৌঁছাল না।

সেঞ্চুরির স্বপ্ন থেমে গেল ৯১ রানে। তবু টার্নিং পিচে এমন ইনিংস—যথেষ্ট প্রমাণ, সমালোচিত এই ওপেনারের ভেতর এখনও ক্রিকেটের আলো বেঁচে আছে। ৮৬ বলের ঝকঝকে এক ইনিংস। চারটি ছক্কা আর সাতটি ছক্কায় সাজানো ইনিংস। এর অর্থ হল ৬৪ রানই তিনি করেছেন বাউন্ডারি থেকে।

সর্বশেষ বাংলাদেশি ওপেনার হিসেবে এই সৌম্য সরকারই সেঞ্চুরি করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের স্মৃতি তিনি ফিরিয়ে আনছিলেন মিরপুরের স্লো-টার্নারে। দারুণ ছন্দে ছিলেন, বল স্লটে পাওয়া মাত্রই স্ট্রোক খেলছিলেন। সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ তাই থাকবেই।

পুরো দস্তর বাউন্ডারি নির্ভর ইনিংস। চলতি সিরিজে বাংলাদেশ পরিপূর্ণ এক ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। সেই পরিকল্পনার আদর্শ পেয়াদা ছিলেন সৌম্য। লক্ষ্য ছিল পরিস্কার, এই ধরণের উইকেটে টিকে থাকতে চেয়ে লাভ নেই, বরং সুযোগ পেলেই পাওয়ার হিটিং করতে হবে। সাইফ হাসানকে সাথে নিয়ে সেই কাজটাই করলেন।

আগের ম্যাচে ৮৯ বল খেলে করেছিলেন ৪৫ রান। এভাবে ব্যাট করা সৌম্যর কাজ নয়। এবার মিরপুরে তাঁকে দিয়ে সেই কাজটাই করানো হল, যেটা তিনি পারেন। আর নিজের কাজে, নিজের দিনে সৌম্য সরকার চাইলে সব করতে পারেন।

Share via
Copy link