আমাদের গেছে যে দিন একেবারেই কি গেছে, কিছুই কি নেই বাকি? ক্রিকেটে অলরাউন্ডার শব্দটা আসলেই এই লাইনটার কথা মনে আসে সবার আগে। একটা সময় ছিল যখন অলরাউন্ডার মানেই ছিল দলের শক্তি, আলোকবর্তিকা হয়ে তারা পথ দেখাত, ব্যাট কিংবা বল হাতে যেন এক পূর্ণাঙ্গ শক্তি হিসেবে আগমন ঘটত তাদের। সময়ের পাতা সেসব দিন আজ মুছে গেছে, বর্তমানে নামজাদা অলরাউন্ডার যে নেই বললেই চলে।
২০০০-এর প্রথম দশক, তখনকার অলরাউন্ডারদের নাম কানে আসতে গায়ে কাটা দিয়ে ওঠার উপক্রম হতো। ওয়ানডেতে ২০০৯ সালের অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিং দেখলেই পরিষ্কার হবে সবকিছু। নামগুলো ছিল, সাকিব আল হাসান, জ্যাকব ওরাম, আন্ড্রু ফ্লিনটফ, শোয়েব মালিক, জ্যাক ক্যালিস, ক্রিস গেইল, যুবরাজ সিং, শহিদ আফ্রিদি, সনাথ জয়াসুরিয়া এবং পল কলিংউড।
এদের ঘাড়ের উপর নিশ্বাস নিতেন, ডোয়াইন ব্রাভো, এলবি মরকেল, জেপি ডুমিনি, এঞ্জেলো ম্যাথিউসের মতো সব নাম। এরা কেবল স্রেফ খেলোয়াড় ছিলেন না, ছিলেন একটা দলের ভারসাম্য। নামগুলোর ওজন যদি পরিমাপ করা যেত তবে একটা লাইন হিসাবটা পরিষ্কার করে দিত, গোটা পৃথিবী একদিকে আর এরা অন্য দিক।

কালের বিবর্তনে সবকিছু বদলে গেছে। কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই। এখন যা আছে তা দিয়ে চালিয়ে নেওয়া যায় তবে প্রতিপক্ষ শিবিরে ভয় ধরানো যায় কি?
ওয়ানডের বর্তমান অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকানো যাক। আজমতউল্লাহ ওমরজাই, সিকান্দার রাজা, মোহাম্মদ নবী, মেহেদী হাসান মিরাজ, রশিদ খান, মাইকেল ব্রেসওয়েল, মিচেন স্যান্টনার, ব্রান্ডন ম্যাকমুলেন, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, জেরাল্ড এরাসমাসের মতো সব নাম। এদের পেছনে আছে অক্ষর প্যাটেল, জশ হ্যাজেলউড, সালমান আলী আঘারা।
কেমন যেন একটা শূন্যতা বিরাজমান সবখানে। বর্তমান অলরাউন্ডারদের অনেকেই বল করেন কালেভদ্রে, আবার বোলার হলেও মাঝেমধ্যে ব্যাট চালিয়েই পেয়ে যাচ্ছেন অলরাউন্ডারের তকমা। তবে একেবারে নিঁখাদ কেউ নেই, যে কিনা ব্যাট আর বল একসাথে চালাতে পারেন সমান তালে, প্রতিপক্ষকে নিজের দিনে একাই গুড়িয়ে দিতে পারেন এক নিমিষে।

তখন অলরাউন্ডারদের মধ্যে লড়াইটা ছিল প্রকাশ্য। কে সেরা, কে নাম্বার ওয়ান, এই বিতর্ক মাঠেই নিষ্পত্তি হতো। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান মানে ছিল ধারাবাহিক দাপট। অলরাউন্ডার তাকেই বলা হতো, ব্যাট ও বল হাতে দুটোতেই যে সর্বেসর্বা। ক্রিকেট এগিয়েছে ঠিকই। কিন্তু সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে অলরাউন্ডারের ওপর নির্ভর করার সাহসটাও।
আজ যখন বলা হয়, ‘এই যুগে অলরাউন্ডার নেই’, তখন সেটা পুরো সত্য নয়। অলরাউন্ডার আছে। কিন্তু সেকালের মতো চাপ গায়ে মাখা অলরাউন্ডার নেই। যারা একাই ম্যাচের ভাগ্য বদলাতে পারত, সেই চরিত্রটাই এখন দুর্লভ। তাই তো শুরুর লাইনটা আরও একবার বলতেই হয়, আমাদের গেছে যে দিন, একেবারেই কি গেছে? কিছুই কি নেই বাকি?











