অ্যান্ডি ব্লিগনট, বৈশ্বিক মঞ্চে বিরাট কোনো নাম না হলেও জিম্বাবুয়ের জন্য তিনি ছিলেন খোদ ল্যান্স ক্লুজনারের সমতূল্য। সেই অলরাউন্ডার ব্লিগনটের দুই উত্তরসূরী এবার এসেছেন অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে।
ব্লিগনটের দুই ছেলে কিয়ান ও মাইকেল ব্লিগনট এবার বিশ্বমঞ্চে বাবার উত্তরাধিকার বহন করতে নামছেন। ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও স্কটল্যান্ডকে নিয়ে গ্রুপ ‘সি’ তাই ইতোমধ্যেই সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
ব্লিগনট ভাইদের একজন কিয়ান। ওপেনিং কিংবা টপ অর্ডারে ব্যাট করা এই তরুণ ব্যাটারকে জিম্বাবুয়ের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখছেন অনেকে। টুর্নামেন্টের আগে খুব ঝলমলে ফর্মে না থাকলেও আন্তর্জাতিক আক্রমণের সামনে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ তিনি আগেই দিয়েছেন। গত বছরের এপ্রিলে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের হয়ে লিস্ট ‘এ’ অভিষেকে ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন কিয়ান, যা দেখিয়ে দেয় বয়সের তুলনায় তাঁর মানসিক দৃঢ়তা কতটা পোক্ত।

অন্যদিকে তাঁর যমজ ভাই মাইকেল ব্লিগনট ব্যাট করেন তুলনামূলক নিচের দিকে। কিন্তু তাঁর ব্যাটিং রেকর্ড মোটেও হালকা করে দেখার মতো নয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে হাফ-সেঞ্চুরি আছে তাঁর নামের পাশে। আয়োজক দেশ হিসেবে জিম্বাবুয়ের বড় ভরসা এই মাইকেলই, বিশেষ করে চাপের মুহূর্তে ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে এগিয়ে রাখছে।
তাঁদের বাবা অ্যান্ডি ব্লিগনট ছিলেন জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের এক অনন্য চরিত্র। লোয়ার-মিডল অর্ডারে আগ্রাসী ব্যাটিং, সঙ্গে বল হাতে গতি আর শক্তি। দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি অলরাউন্ডার ক্লুজনারের সঙ্গে তাঁর মিলও ছিল বিস্তর।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ১৯ টেস্টে প্রায় ২৭ গড়ে ছয়টি ফিফটিতে ৮৮৬ রান করেন ব্লিগনট। ওয়ানডেতে ৫৪ ম্যাচে ১৯ গড়ে পাঁচটি অর্ধশতকে করেন ৬২৬ রান। তবে সংখ্যার চেয়েও বেশি চোখে পড়ে তাঁর ১০৬ স্ট্রাইক রেট—যা সেই সময়ের ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের স্পষ্ট বার্তা দিত। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক খেলেছেন মাত্র একটি, সেখানে রান ছিল মাত্র ৮।


অথচ, ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে ১৪৫ স্ট্রাইক রেট থাকার পরও জাতীয় দলে এই ফরম্যাটে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ খুব বেশি পাননি তিনি। সব মিলিয়ে ব্লিগনট ছিলেন এমন এক ক্রিকেটার, যিনি অল্প সময়েই বড় ছাপ রেখে গেছেন, কিন্তু ক্যারিয়ারটা পূর্ণতা পায়নি। আজ সেই অসমাপ্ত গল্পের পূর্ণতাই হয়তো মিলবে কিয়ান ও মাইকেলের হাত ধরে।










