ইতালির মনফালকোন শহর, যেখানে এক সময় ক্রিকেট খেললে জরিমানা গুনতে হতো, বলা হতো ‘ক্রিকেট ইতালির জন্য নয়’, সেই দেশই বিশ্বকাপের আলোয় নিজের পরিচয় নতুন করে লিখছে। সময় বদলেছে, বদলাতে বাধ্য হয়েছে দৃষ্টিভঙ্গিও। অবাঞ্চিত ক্রিকেটটাই ইতালিকে দেখাচ্ছে নতুন সম্ভাবনার পথ।
মনফালকোনের মেয়র আন্না মারিয়া সিসিন্ট ক্রিকেটকে ‘বিদেশি’ খেলা আখ্যা দিয়ে শহরসীমায় কার্যত নিষিদ্ধ করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, পার্কে ক্রিকেট খেলা বিপজ্জনক, শহরের আর্থিক বা জায়গাগত সক্ষমতা নেই আলাদা মাঠ গড়ার। এমনকি সিসিটিভিতে দেখে তরুণদের জরিমানাও করা হয়েছে। কিন্তু খেলা কি কখনও দেয়াল মানে? ক্রিকেট তো সীমানা ভাঙারই গল্প।
এই বিতর্কের মাঝেই সামনে আসে ইতালিয়ান ক্রিকেট ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ফাবিও মারাবিনির বক্তব্য। তিনি বলেন, মনফালকোনের তরুণেরা যে ক্রিকেট খেলতে চায়, তা অনেকটা স্পঞ্জ বল দিয়ে ফুটবল খেলার মতো, পার্কে টেনিস বল, কখনও টেপে মোড়া বল, তিনটি স্টাম্প আর এক ব্যাটসম্যান। চামড়া, সুতা আর কর্কের ভারী বল নয়, খেলাটা তাদের কাছে আনন্দ, অভ্যাস, সংস্কৃতির মেলবন্ধন।

আর সেই সংস্কৃতিই আজ বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে ইতালিকে নতুন পরিচয় দিচ্ছে। ইতালি এখন শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, লড়াকু এক দল। এমন এক দল, যেখানে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কার বংশোদ্ভুত খেলোয়াড়রা। এক কথায় বহুজাতিক এক পরিবার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখার সেই চাঞ্চল্যকর অভিযান, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়া। আবার যারা খেলছেন তাদের মূল পেশাও যে ভিন্ন। কেউ পিৎজা বানাচ্ছে, কেউ কারখানায় কাজ করছে, কেউ বা ডেলিভারি ম্যান। তবে লড়াইটা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। একে অপরের কাজ আলাদা, ভাষা আলাদা, কিন্তু ড্রেসিংরুমে একটাই ভাষা, ক্রিকেট খেলব, লড়াই করব।
ক্রিকেট এখন কেবল কিছু নির্দিষ্ট দেশের খেলা নয়, এটি এখন বৈশ্বিক এক আবেগ। যে দেশে এক সময় উপেক্ষিত ছিল ক্রিকেট, সেই দেশই আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের পতাকা উড়াচ্ছে, ওই ক্রিকেটের কারণেই।

মনফালকোনের পার্ক থেকে বিশ্বকাপের বিশাল স্টেডিয়াম। টেপে মোড়া টেনিস বল থেকে আন্তর্জাতিক ম্যাচের ঝকঝকে সাদা বল। জরিমানার ভয় থেকে গ্যালারির গর্জন। ক্রিকেটের সৌন্দর্য এখানেই, এটি বিভাজন নয়, সংযোগের ভাষা। ইতালি সেই ভাষাতেই কথা বলছে এখন।











