ড্রেসিংরুমে বসে হাসছেন রোহিত শর্মা। এ যে স্মরণীয় এক সময়। ভারত তখন জয়ের দ্বারপ্রান্তে। স্কোরবোর্ডে আর মাত্র দুই রান দরকার, আর বাইশ গজে দাঁড়িয়ে বিরাট কোহলি তখন ইতিহাসের দুয়ারে। সেঞ্চুরি নম্বর ৫২ থেকে মাত্র চার রান দূরে। এ এক মহাকাব্যের চূড়ান্ত দৃশ্যপট, যেখানে রাজা আরেকবার নিজের আধিপত্য ঘোষণা করতে প্রস্তুত।
রোহিত হাত তুলে ইশারা করলেন—‘ছক্কা মার!’ কিন্তু কোহলি জানেন, প্রতিটি জয় তার নিজস্ব পথেই আসতে হয়। ডাউন দ্য ট্র্যাকে এলেন, ব্যাট চালালেন, বল সীমানা ছুঁয়ে গেল। চার রান। ব্যাট উঁচিয়ে দাঁড়ালেন, ঠোঁটে চিরচেনা সেই অম্লান হাসি। এই হাসির অর্থ বোঝে সবাই—এ হাসি আধিপত্যের, আত্মবিশ্বাসের, এক অনবদ্য অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তির।
সেই হাসিতে লেখা হলো এক অমোঘ সত্য—দ্য কিং ইজ ব্যাক। লং লিভ দ্য কিং। যতদিন এই রাজা আছেন, রাজ্যের পতাকা উড়বেই। এই জয়ের নেপথ্যে আরও কিছু যুদ্ধসেনার অবদান ছিল। বিশেষ করে অক্ষর প্যাটেল, যিনি এসে ক্রিজ আঁকড়ে ধরেছিলেন ঠিক তখন, যখন ভারত জয় থেকে ১৯ রান দূরে। কোহলি তখনও সেঞ্চুরি থেকে ১৪ রান দূরে। সময় ছিল না, কিন্তু একসঙ্গে ছিল বিশ্বাস আর প্রত্যয়।

অক্ষর জানতেন, এই মঞ্চ রাজপাটের, এ লড়াই রাজার জন্য। তিনি খেললেন রাজাকে জেতানোর জন্য। কিন্তু একটা সমস্যা থেকেই গেল—তিনি সিঙ্গেল নিয়ে কোহলিকে স্ট্রাইক দিতে চাইছেন না! ডাবল নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, কিন্তু নিচ্ছেন না। কোহলি রক্তচক্ষু দেখাচ্ছেন, কিন্তু তাতেও লাভ নেই। কারণ, আজ সবাই খেলছেন কোহলির জন্য, রাজার জন্য।
অবশেষে রাজা নিজেই সব জট খুললেন। তাঁর ব্যাটই তাঁর সবচেয়ে বড় অস্ত্র, আর সেই অস্ত্রের ঝলকানিতেই এল জয়। চার হাঁকিয়ে শেষ করলেন ইনিংস, ইতিহাসের আরেকটি পাতায় যোগ হলো নতুন পালক। এক চিরস্থায়ী আসন গড়ে রাখলেন এই বাইশ গজে।
কোহলি সাজঘরে ফিরলেন। তিনি কেবল ম্যাচ জিতিয়ে ফিরছেন না, ফিরছেন এক অমর যোদ্ধার মতো, যিনি যুদ্ধ জয় করে প্রাসাদে ফিরছেন। বাইশ গজ থেকে ড্রেসিংরুমের পথটা যেন বিজয়ীর পথ হয়ে উঠল। চারদিকে হাততালি, চিৎকার, উচ্ছ্বাস, আর ইতিহাস সাক্ষী রইল—যতদিন বিরাট কোহলি থাকবেন, ততদিন ক্রিকেটের এই রাজ্য তাঁরই থাকবে!











