পূর্ণতা পেল থিয়াগো সিলভার প্রার্থনা

হাটু গেড়ে বসে পড়া মানুষটা, দুই হাত তুলে তাকিয়ে আছেন আকাশের দিকে। চোখ বুজে আছেন, ঠোঁটে কিছু প্রার্থনার শব্দ কাঁপছে হয়তো। দৃশ্যটা চেনা। এসি মিলানের জার্সিতে যেমন দেখা মিলেছে, তেমনই দেখা মিলেছে পিএসজি কিংবা চেলসিতে।

হাটু গেড়ে বসে পড়া মানুষটা, দুই হাত তুলে তাকিয়ে আছেন আকাশের দিকে। চোখ বুজে আছেন, ঠোঁটে কিছু প্রার্থনার শব্দ কাঁপছে হয়তো। দৃশ্যটা চেনা। এসি মিলানের জার্সিতে যেমন দেখা মিলেছে, তেমনই দেখা মিলেছে পিএসজি কিংবা চেলসিতে।

সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছেন থিয়াগো সিলভা। কিন্তু এবারের আয়োজন কিছুটা ভিন্ন। থিয়াগো সিলভার প্রার্থনায় এবার মিশে আছে এক দু:সাহসিক অভিযাত্রার পূর্ণতা, জীবনের শেষ প্রহরে শিকড়ে ফিরে আসার আরাধ্য আনন্দ।

বয়সটা পেরিয়েছে ৪০ এর কোটা। ইউরোপ ছেড়ে থিয়াগো ফিরেছেন ফ্লুমিনেন্সেতে, নিজের শিকড়ে। এটাও তো ক্লাবের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। যেই ক্লাব ব্রাজিলের এক অখ্যাত থিয়াগোকে ইউরোপের ‘মহীরূহ’ থিয়াগো সিলভা বানিয়েছে, সেখানেই ক্যারিয়ারের শেষটা মেলানো। ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ ক’টা দিন উপভোগ করা। ফুটবলটা ব্রাজিলিয়ানরা উপভোগ করতে জানে।

ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ২০২৫ এ ফ্লুমিনেন্সের অধিনায়ক হিসেবেই হাজির হয়েছেন থিয়াগো। ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ৪ দল অংশ নিয়ে নকআউট পর্বে উন্নিত হয়েছে সবাই। কিন্তু ‘রাউন্ড অব ১৬’-তেই যেন ইউরোপীয় দলগুলোর সাথে অন্য দলগুলোর পার্থক্য বেশ বড় হয়েই স্পষ্ট হয়েছে।

লিওনেল মেসির ইন্টার মিয়ামি কিংবা ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গো, ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হেরেছে বড় ব্যবধানে। এমন আলোচনার পালে হাওয়া লাগতে শুরু করেছে, ক্লাব বিশ্বকাপ আদতে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশীপই।

নন ইউরোপীয় সকল ক্লাবের সম্মান বাচাতেই যেন এগিয়ে আসে থিয়াগো সিলভার ফ্লুমিনেন্সে। শেষ ষোল’র ম্যাচে ইউরোপীয় জায়ান্ট ইন্টার মিলানের বিপক্ষে সিলভা জানান দিলেন, তিনি এখনও মহীরুহ।

ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটে কানুর গোলে এগিয়ে যায় দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরা। ডান প্রান্ত থেকে পাঠানো নিরিহ দর্শন ক্রসটাকে দেখে ইন্টারের ডিফেন্ডাররা সম্ভবত ঘুমিয়েই পড়েছিলেন। দুই ডিফেন্ডারের মাঝখানে ড্রপ পড়া বল কানু হেড করে গোলের পথ দেখিয়ে দিলেন।

দ্বিতীয়ার্ধে ইন্টারের যখন ঘুম ভেঙেছে, তখন বড্ড দেরী হয়ে গেছে। প্রতিরোধের জন্য শাখা মেলেছে এক প্রাচীন বৃক্ষ, সঙ্গী তার থেকেও ‘বুড়ো’ ৪৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক, আর ভাগ্য দেবীর আর্শীবাদপুষ্ট গোলবার।

মিলানের আর ম্যাচে ফেরা হয় নি। বরং ম্যাচের শেষমুহূর্তে ব্রাজিলিয়ান নতুন সেনসেশন হারকিউলিস তাঁর বা পায়ের জাদুতে করেছেন দলের দ্বিতীয় গোল।

২-০ গোলের ব্যবধানে হেরেই ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে লাউতারো মার্টিনেজের ইন্টার মিলান। ফ্লুমিনেন্সে লিখেছে দৈত্য বধের কাব্য।

Share via
Copy link