ক্রিকেট মাঠে হ্যান্ডবল। দলের বাকিরা যখন ব্যাটিং বোলিংয়ে ব্যস্ত, তখন মুস্তাফিজ-নাহিদদের নিয়ে আলাদা সেশনে মুনোযোগ ফিল্ডিং কোচের। ভিন্ন কায়দায় রিফ্লেক্স বাড়ানোর প্রচেষ্টা জেমস প্যামেন্টের। সাথে নাসুম-তানভীররাও ছিলেন সেই সেশনে।
বাংলাদেশ দলের দূর্বল ফিল্ডারদের একটা তালিকা করা হলে সেখানে অনায়াসে জায়গা হবে মুস্তাফিজুর রহমানের। ক্যাচ খুব একটা হাত ফসকায় না তার। তবে গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে বেশ অলস মনে হয় তাকে। মাঠে রীতিমত তাকে আড়াল করে রাখতে হয়। থার্ড ম্যান কিংবা শর্ট থার্ড ম্যান অঞ্চলে ফিল্ডিং করতে দেখা যায় তাকে।
সাম্প্রতিক সময়ে ফিল্ডিংয়ে মুস্তাফিজের নিবেদন নিয়েও উঠেছিল প্রশ্ন। অতএব ফিল্ডিং তার ঘাটতির জায়গা। ঠিক তেমনি নাহিদ রানা, তানভীর ইসলাম ও নাসুমরাও সেই অর্থে গড়পড়তা মানের ফিল্ডার। ঠিক সে কারণেই তাদের ফিল্ডিং দক্ষতা বাড়ানোর জন্যে আলাদাভাবে কাজ করছেন জেমস প্যামেন্ট।

সিলেটে বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্কিল ডেভেলপমেন্ট ক্যাম্প চলমান। প্রথমদিন পেসারদের নিয়ে চ্যানেল বোলিং অনুশীলন করেছেন পেস বোলিং কোচ শন টেইট। সেদিনও মুস্তাফিজকে দেখা গেছে স্বল্প দূরত্বের ক্যাচ অনুশীলন করতে। ক্যাম্পের তৃতীয় দিনেও মুস্তাফিজের হাতে ওঠেনি বল। তাকে দেখা যায়নি প্র্যাকটিস নেটের আশেপাশে।
যেহেতু এই ক্যাম্পে এশিয়া কাপকে কেন্দ্র করেই হচ্ছে, তাই হয়ত মুস্তাফিজের বোলিং কোনভাবেই দুশ্চিন্তার কারণ নয়। কেননা খেলা হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। খানিকটা বোলিং সহায়ক উইকেটের মুস্তাফিজ ঠিক কতটা ভয়ংকর তা তো কারোই অজানা নয়। সে কারণে মুস্তাফিজের বোলিংয়ের তুলনায় তার ফিল্ডিং দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা কোচিং প্যানেলের।
সে কারণে প্যামেন্ট বেছে নিয়েছেন আন্ডার আর্ম হ্যান্ডবল টেকনিক। যেখানে বল সতীর্থকে পাস দিতে হবে, জায়গায় দাঁড়িয়ে। এরপর এগিয়ে যেতে হবে দু’টো ছোট আকৃতির মার্কারের দিকে। বল থ্রো করে লাগাতে হবে সেই মার্কারে। এতে করে বল ক্যাচ করা থেকে শুরু করে, বল পাস ও থ্রো, সব ধরণের কাজ হয়ে যাবে একই অনুশীলনে। তাছাড়া প্রতিপক্ষ থাকায় টাইট অ্যাঙ্গেল থেকে নিশানা ভেদ করার অনুশীলন হয়ে যাবে।

শুধু যে মুস্তাফিজের জন্যেই এমন পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে তা কিন্তু নয়। নাহিদ, নাসুম, তানভীরদেরও যেতে হয়েছে একই অনুশীলনের মধ্য দিয়ে। একটা ম্যাচ জিততে যেমন ভাল ব্যাটার-বোলার প্রয়োজন, তেমনি একটা ম্যাচ জিততে প্রয়োজন আদর্শ ফিল্ডারও। মুস্তাফিজরা সেই আদর্শ ফিল্ডার হতে পারছেন কিনা তা অবশ্য প্রমাণিত হবে মাঠের ক্রিকেটে।











