হযবরল পরিস্থিতি, তালগোল পাকিয়ে সহজ রান আউট মিস

কমেডি অব ইরোর। তাও আবার দুইটি। একেবারে যাচ্ছে তাই অবস্থা।

কমেডি অব ইরোর। তাও আবার দুইটি। একেবারে যাচ্ছে তাই অবস্থা। দুই ব্যাটার একই প্রান্তে পৌঁছে যাওয়ার পরও রানআউট করতে না পারার ব্যর্থতা। সেই ব্যর্থতার দায়ে দোষী বাংলাদেশ-পাকিস্তান দুই দলই। তবে পাকিস্তানের খুব ক্ষতি না হলেও বাংলাদেশের ঠিকই হয়েছে ক্ষতি। তবে সেটাও হয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের কাণ্ডজ্ঞানহীনতার কারণে।

মোহাম্মদ হারিস ও মোহাম্মদ নওয়াজ, পাকিস্তানি দুই ব্যাটার তখন বাইশ গজে। নওয়াজ তানজিম সাকিবের একটা বলকে ঠেলে দিল ডিপ স্কোয়ার লেগে। ততক্ষণে দ্বিতীয় রানের জন্যে দৌড়ে প্রায় ব্যাটিং প্রান্তে চলে এসেছেন নওয়াজ। কিন্তু হারিস ঠায় দাঁড়িয়ে তখনও ব্যাটিং প্রান্তে। ইমন করলেন ব্লান্ডার। তার থেকেও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিলেন জাকের আলী অনিক।

ইমন থ্রো করলেন ব্যাটিং প্রান্তে। অপরপ্রান্তের দিকে তখন কেবলই দৌড় শুরু করেছেন হারিস। জাকের এই সময়ের মধ্যে নিজের হাতের গ্লাভস খুললেন না। গ্লাভস সমেত বোলিং প্রান্তে বল পাঠাতে গিয়ে বড্ড দেরি হয়ে গেল। ততক্ষণে বোলিং প্রান্তেও পৌঁছে গেছেন মোহাম্মদ হারিস।

ঠিক পরের ওভারেই মোহাম্মদ নওয়াজ হাঁকিয়েছেন বিশাল ছক্কা। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানকে লড়াই করবার রসদও জুগিয়ে গেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের আর সেই সৌভাগ্য হয়নি। তাওহীদ হৃদয়ে কাট শট ত্রিশ গজ বৃত্তের ভেতরই আটকে ফেলেন মোহাম্মদ সাইম। অপরপ্রান্তে থাকা মোহাম্মদ সাইফ ততক্ষণে অর্ধেক পিচ পার করে ফেলেছেন।

পাকিস্তানের তিনজন ফিল্ডার দৌড়ে গেলেন বোলিং প্রান্তের দিকে। কিন্তু সাইমের থ্রো থেকে কেউ আর সাইফকে আউট করতে পারেননি। হতাশা ছেয়ে যায় পাকিস্তান শিবিরে। সেই হতাশা অবশ্য স্থায়ী হয়েছে মাত্র এক বল। পরবর্তী বলে তাওহীদ হৃদয়ের আবার দায়িত্বহীন শট। ওই সাইমের হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়। ২৩ রানে টাইগারদের দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে। এরপর দ্রুততম সময়ে আরও দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

১৩৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক তখন থেকেই কঠিন মনে হতে শুরু করে। একই দিনে এমন সহজ রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার দৃষ্টান্ত বেজায় দৃষ্টিকটু। দুই দলের সামর্থ্য আর গেম অ্যাওয়ারনেসের ঘাটতি করে স্পষ্ট। তবে পাকিস্তান নিজেদের সামলে নিতে পারলেও, বাংলাদেশ পারেনি।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link