ক্রিকেট কখনও কল্পনাকেও হার মানায়। বিশ বছর আগের দুই তরুণ প্রতিদ্বন্দ্বী, দুটো ভিন্ন মহাদেশ আর ভিন্ন জীবনের বাঁকা পথ পেরিয়ে দাঁড়িয়েছেন একই জার্সি গায়ে- ফিনল্যান্ডের মাঠে লেখা হলো ঠিক এমনই এক গল্প।
২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলে ছিলেন সিরাজউল্লাহ খাদেম নিপু – ক্রিকেট মহলে যিনি পরিচিত নিপু নামে, তামিম-সাকিব-মুশফিকুরদের সেই স্বর্ণপ্রজন্মেরই সতীর্থ, বাঁহাতি মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান আর মিডিয়াম পেসার হিসেবে যাকে ধরা হতো দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় তরুণ অলরাউন্ডারদের একজন।

ঠিক একই টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষ শিবিরে, অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে খেলছিলেন মোইজেস হেনরিক্স- যিনি সেবার টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছিলেন ১৬ শিকার নিয়ে। এক মাঠ, একই বয়স, কিন্তু দুজন তখন একে অপরের প্রতিপক্ষ।
এরপর সময় দুজনকে নিয়ে গেছে দুই ভিন্ন পথে। নিপুর যাত্রা থেমে যায় ২০০৯ সালে, হবিগঞ্জে নেট প্র্যাকটিসে বলের আঘাতে বাঁ চোখে চোট পেয়ে- যে চোট শেষ পর্যন্ত কেড়ে নেয় তার পেশাদার ক্যারিয়ারই। জীবনের কঠিনতম সেই সময় পেরিয়ে ২০১৪ সালে তিনি পাড়ি জমান পর্তুগালে, নতুন করে বাঁচিয়ে রাখেন ক্রিকেটের নেশা- ঘরোয়া লিগে খেলে, বাঁহাতি স্পিনে নিজেকে নতুন করে গড়ে, ২০২০ সালে হন পর্তুগিজ নাগরিক, আর ২০২১ সালে সুযোগ পান জাতীয় দলে।

অন্যদিকে হেনরিকস অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলেছেন ৪টি টেস্ট, ১৬টি ওয়ানডে, ২৪টি টি-টোয়েন্টি, শেষ খেলেছেন ২০২১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষেই। জন্ম যেহেতু পর্তুগালের মাদেইরায়, অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসরের পর তিনিও বেছে নেন জন্মভূমির জার্সি- আর এবার ফিনল্যান্ডের বাছাইপর্বে অধিনায়কের দায়িত্বও পান।
আর তাতেই তৈরি হয় সেই বিরল দৃশ্য- বিশ বছর আগের দুই প্রতিপক্ষ, একজন বাংলাদেশের, আরেকজন অস্ট্রেলিয়ার,দুজনই পর্তুগাল জার্সিতে মাঠে নামলেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। গল্পটা আরও সুন্দর হলো ফলাফলেও। হেনরিকসের নেতৃত্বে অপরাজিত থেকে পুরো টুর্নামেন্ট শেষ করে পর্তুগাল, ফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে জিতে নেয় শিরোপা। এই জয়ে ২০২৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইউরোপ কোয়ালিফায়ারে জায়গা করে নিল দলটি, যা তাদের আরও একধাপ এগিয়ে দিল ২০২৮ বিশ্বকাপের স্বপ্নের দিকে।

বিশ বছর আগে যে দুই কিশোর একে অপরের বিপক্ষে লড়েছিলেন ব্যাট-বল হাতে, তারাই আজ লড়লেন একসঙ্গে, একই স্বপ্নের পেছনে। ক্রিকেট বোধহয় এভাবেই সবচেয়ে অচেনা চিত্রনাট্যগুলো লেখে।











