গোলের ভেতরে লুকানো কান্না—মেসির শেষ উল্লাস

সেই কোরাসে যোগ দিল মনুমেন্টালের হাজারো দর্শক। লিওনেল মেসির শেষের শুরু হয়ে গেল। ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের রোমাঞ্চকর ইতি ঘটতে আর মাত্র অল্প ক’টা দিন বাকি।

বুয়েন্স আয়ার্সের আকাশে উৎসবের নক্ষত্র ঝলমল, সময়ের নদী থেমে আছে, যেন শ্বাস ধরে তাকিয়ে থাকে। নীল-সাদা পতাকা উড়ছে, এক ফুটবল দেবতার নামে গর্জন তুলছে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো, আর হাজারো জনতার হৃদস্পন্দন মিশে যায় সেই দেবতার নামের তালে— মেসি, মেসি, মেসি!

মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে নীল-সাদা ঢেউয়ের ভেতর দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা—যারা জানেন, হয়তো এটিই শেষবার দেশের মাটিতে লিওনেল মেসিকে দেখা। ৩৯ মিনিটে করলেন প্রথম গোল।

জুলিয়ান আলভারেজের কাছ থেকে বল পেয়ে মেসির বাম পা ছুঁয়ে গেল চিরচেনা ছন্দে, চিপ করে তুলে দিলেন ভেনেজুয়েলা গোলরক্ষক রাফায়েল রোমোর মাথার ওপর দিয়ে।

বল জালে ঢোকার পর যেন পুরো শহর দুলে উঠল। ‘লিও মেসি’ চিৎকার মিলিয়ে গেল লক্ষ্য কণ্ঠে, চোখে জল আর হাসির এক অদ্ভুত মিশ্রণে। কেউ হাত উঁচু করে পতাকা নাড়ছিলেন, কেউ আবার বুকের ভেতর জমে থাকা আবেগ সামলাতে পারছিলেন না।

আলভারেজ চাইলে শট নিতে পারতেন আরও ভালো জায়গা থেকে। কিন্তু আজকের রাত অন্যরকম। আজকের রাত শুধু এক জনের জন্য—লিওনেল মেসি। বিদায়ী কোনো কান্না নয়, এই ম্যাচ শুধুই মেসিকে উদযাপনের।

সেই ক্ষণিক মুহূর্তে, সবাই যেন জানতেন—এটা কেবল একটি ম্যাচ নয়, একটি যুগের বিদায়ী দৃশ্য।  মেসি নিজেও গোলের পর অল্প হাসলেন, আলতো হাত নেড়ে অভিবাদন নিলেন।

তাঁর চোখে ছিল শান্তি, কিন্তু সেই শান্তির ভেতরও লুকানো ছিল অদৃশ্য ভার। ফুটবলে তাঁর যত স্মৃতি, যত ট্রফি, যত কান্না আর উল্লাস—সবকিছুর সাক্ষী এই আর্জেন্টিনার। আর সেই দেশের মাটিতেই শেষবারের মতো তাঁর পায়ের জাদু দেখল দর্শকরা।

৩৯ তম মিনিটে প্রথম গোল করেছিলেন মেসি। ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাউতারো মার্টিনেজ। ৮০ মিনিটে সেই মেসির সৌজন্যে স্কোরলাইন ৩-০ হল! মেসি জোড়া গোল করলেন।

ডান দিক থেকে বক্সের ভেতর বল পেলেন থিয়াগো আলমাদা। একটু থেমে চারপাশ দেখলেন, খুঁজলেন সঠিক মানুষটিকে। আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেই চিরচেনা ১০ নম্বর।

আলমাদার নিখুঁত পাস পেয়ে মেসি ঠাণ্ডা মাথায় বল ঠেলে দিলেন রোমোর নাগালের বাইরে। এতটাই সহজ, এতটাই পরিপাটি—যেন তাঁর জন্যই লেখা ছিল এই গোল।

ম্যাচ শেষ হল, মনুমেন্টালের আলো নিভে এল। আতঁশবাজিতে কেঁপে উঠল বুয়েন্স আয়ার্স, সতীর্থরা এসে জড়িয়ে ধরলেন মেসিকে। সবাই এক সাথে গান গাইলেন।

সেই কোরাসে যোগ দিল মনুমেন্টালের হাজারো দর্শক। লিওনেল মেসির শেষের শুরু হয়ে গেল। ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের রোমাঞ্চকর ইতি ঘটতে আর মাত্র অল্প ক’টা দিন বাকি।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link