অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে প্রতি তিনজনের একজন দক্ষিণ এশিয়ান

গ্যালারিতে বসে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দের বাবা-মায়েদের কণ্ঠে ভেসে উঠেছিল ভারতের জাতীয় সংগীত 'জন গণ মন'। গায়ে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা জড়ানো থাকলেও শিকড় যে দক্ষিণ এশিয়ায়, সে কথাই যেন স্পষ্ট করে দিয়েছিল সেই মুহূর্ত।

ভারতের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ম্যাচ শুরু হওয়ার ঠিক আগে যে দৃশ্যটি চোখে পড়েছিল, তা ক্রিকেটের বাইরেও এক গভীর বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। গ্যালারিতে বসে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দের বাবা-মায়েদের কণ্ঠে ভেসে উঠেছিল ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’। গায়ে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা জড়ানো থাকলেও শিকড় যে দক্ষিণ এশিয়ায়, সে কথাই যেন স্পষ্ট করে দিয়েছিল সেই মুহূর্ত।

এই ঘটনাটি ছিল কেবল প্রতীকীমাত্র। কারণ, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় আয়োজিত এবারের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপজুড়ে দক্ষিণ এশিয়ার উপস্থিতি কেবল দৃশ্যমান নয়, বরং প্রভাবশালী। পরিসংখ্যান বলছে, এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতি তিনজন ক্রিকেটারের একজন সরাসরি দক্ষিণ এশীয় অথবা দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত।

মোট ২৪০ জন ক্রিকেটারের এই আসরে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ থেকে এসেছেন ৬০ জন খেলোয়াড়। এর বাইরে অন্যান্য দলের হয়ে খেলছেন আরও ৩২ জন ক্রিকেটার, যাদের পারিবারিক শেকড় দক্ষিণ এশিয়ায়, এর মধ্যে ২৮ জনের শিকড় ভারতে, আর পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা থেকে দুই জন করে।

সহযোগী দেশগুলোর দলে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারের আধিক্য নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিত্র বদলাচ্ছে বড় পরিসরে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মতো প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেট শক্তিগুলোর যুব দলেও জায়গা করে নিচ্ছেন দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটাররা।

অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব ১৯ দলে ভারতীয় ও শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত দুই জন খেলোয়াড় আছেন, আর নিউজিল্যান্ড দলে আছেন চারজন। এটি কেবল ক্রিকেট নয়, বরং ওই দেশগুলোর সমাজে দক্ষিণ এশীয়দের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতারও প্রতিচ্ছবি।

অতীতে এই পথ এতটা মসৃণ ছিল না। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান উসমান খাজা একসময় বলেছিলেন, তার কোচ ও নির্বাচকরা সবাই ছিলেন শ্বেতাঙ্গ অস্ট্রেলীয়, যারা তার সংস্কৃতি বা বাস্তবতা বুঝতেন না। সময় বদলেছে। এখন সেই অস্ট্রেলিয়াতেই বড় হয়েছেন জন জেমসের মতো ক্রিকেটার।

নিউজিল্যান্ডে এই সংহতি আরও আগে থেকেই দৃঢ়। অনূর্ধ্ব ১৯ দলে থাকা চারজন ছাড়াও সিনিয়র দলে নিয়মিত খেলছেন অভিবাসী পরিবারের সন্তানরা। ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব ১৯ দলেও পাকিস্তানি যোগসূত্র থাকা দুই ক্রিকেটারের উপস্থিতিও সেই ধারারই অংশ। রয়েছেন ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের ক্রিকেটার রেহান আহমেদের ছোট ভাই ফারহান আহমেদ।

তাদের পথটা আলাদা হলেও যোগসূত্র এক। ক্রিকেট আজ দক্ষিণ এশিয়াকে শুধু বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেয়নি, বরং বিশ্বকেও বেঁধে ফেলেছে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে – সংস্কৃতি, প্রভাব আর উত্তরাধিকার দিয়ে।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link