বার্সেলোনার জার্সিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিষেক মার্কাস রাশফোর্ডের। আর অভিষেকেই জোড়া গোলে বাজিমাত। মাঠের বা-পাশে তার উপস্থিতি ছিল দারুণ জোরাল। প্রায় চার বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে গোলের দেখা পেলেন ইংলিশ তারকা ফরোয়ার্ড।
বার্সেলোনার ‘স্টারবয়’ লামিন ইয়ামাল ছিলেন না ইনজুরির কারণে। তাতে হ্যান্সি ফ্লিকের একাদশ সাঁজাতে একটু বেগ পোহানো ছাড়া বিশেষ কোন ক্ষতি হয়নি। নিউ ক্যাসেলের ঘরের মাঠে অবশ্য প্রথমার্ধে গোলের দ্বার উন্মোচিত করতে পারেনি কাতালান ক্লাবটি। নিউ ক্যাসেলের লো ব্লক ডিফেন্সকে ভাঙা দায় হয়ে দাঁড়ায়।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে রাশফোর্ড এলেন ত্রাতা হয়ে। মাঠের ডানদিক থেকে জুলস কুন্ডের ক্রসে হেডে প্রথম গোল করেন মার্কাস রাশফোর্ড। তখনও এক ঘন্টার কাঁটা ছুঁয়ে দেখেনি ম্যাচের সময়। ৫৮ মিনিটে এগিয়ে যায় সফরকারী দল। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের কোচ টমাস টুখেল এদিন ছিলেন গ্যালারিতে।

ম্যানচেস্টার থেকে ধারে বার্সেলোনায় এসেছেন রাশফোর্ড। রেড ডেভিলদের হয়ে দুর্দশাময় দিনের অবসান ঘটাতে বড্ড মরিয়া তিনি। তাইতো ম্যাচের ৬৭ মিনিটের মাথায় দারুণ এক গোলে তিনি জানান দেন, ‘রাশফোর্ড ইজ ব্যাক’। ২-০ গোলে এগিয়ে বার্সেলোনা নিজেদের স্বভাবজাত খেলাই চালিয়ে গেছে। মধ্যমাঠের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আর রাফিনহা আক্রমণে বারংবার প্রতিপক্ষের মনে ধরিয়েছেন কাঁপন।
স্রোতের বিপরীতে নিউক্যাসেল তাদের খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে আসার চেষ্টা চালায় বটে। সেই চেষ্টার ফসল হিসেবে গোল এসে ধরা দেয় ম্যাচের ৯০ মিনিটে। কিন্তু তাতে আখেরে লাভের লাভ কিছুই হয়নি ইংলিশ ম্যাগপাইদের। বরং রাশফোর্ডের কল্যাণে তিন পয়েন্ট নিয়েই বাড়ি ফিরেছে কাতালান ক্লাব।
অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম রাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটির ঘরে হাজির হয়েছিল নাপোলি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে পেপ গার্দিওলার দল ধুকছে। টেবিলের আট নম্বরে ম্যান সিটির অবস্থান। এতটা নাজেহাল অবস্থার মাঝেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অন্তত জয়টা তুলে নিতে পেরেছে পেপ ও তার দল। যদিও ম্যাচের ২১ মিনিটের মাথায় দশ জনের দলে পরিণত হয় নাপোলি। জিওভানি ডি লোরেঞ্জো রেড কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।

আর তাতে সিটির পরম আদুরে ঘরের ছেলে কেভিন ডি ব্রুইনার প্রস্থান ঘটে। তার বদলে আরেকজন ডিফেন্ডারকে মাঠে নামাতে একপ্রকার বাধ্য হন অ্যান্তোনিও কন্তে। নাপোলির হয়ে মাঠে নামা ডি ব্রুইনা যখন উঠে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে রীতিমত রাজার বেশে বিদায় জানায় ইতিহাদ। যত যাই হোক, তিনি তো সিটির ঘরের ছেলে।
এরপর দশ জনের নাপোলির উপর রীতিমত চড়াও হয় ম্যানচেস্টার সিটি। বল দখলের লড়াই শুরুতে এগিয়ে থাকা ইতালিয়ান ক্লাবটি পরবর্তীতে নিজেদের খানিকটা গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগায় পেপ গার্দিওলার দল। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে আর্লিং হালান্ড ও ৬৫ মিনিটে জেরেমি ডোকু গোল করেন।
দশ জনের নাপোলির কাছে জবাব দেওয়ার মত যথেষ্ট রসদ যেন ছিল না। তবুও চেষ্টা চালিয়েছে তারা। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোলের ঠিকানা খোঁজার প্রয়াশ হয়েছে নস্যাৎ। শেষ অবধি ওই ২-০ গোল ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি।












