ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে এসে চার, পৌঁছে গেলেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে। এরপর বিরাট কোহলি কি করলেন? ড্রেসিংরুম নয় বরং গ্যালারিতে বসে থাকা এক ভদ্রলোককে উদ্দেশ্য করে উদযাপন করলেন। কিন্তু কে সেই ভদ্রলোক, একটু খোঁজাখুঁজি করতেই উত্তরটা পাওয়া গেলো। আর কেউ নয়, স্বয়ং বিরাটের ছোটবেলার কোচ রাজকুমার শর্মা।
বর্তমানে অবশ্য দিল্লী অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট তিনি। তবে কাজের চাপে কি আর প্রিয় শিষ্যকে ভোলা যায়? তাই তো কোহলির খেলা দেখতে ছুটে এসেছেন দুবাইতে, কোহলি নিজেই তাঁর টিকিটের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
চোখের সামনে বিরাটের মহাকাব্যিক সেঞ্চুরি আর নিজের দিকে ইঙ্গিত করে উদযাপনের দৃশ্য দেখতে কেমন লেগেছিল রাজকুমারের? জবাবে তিনি বলেন, ‘গর্ববোধ করছিলাম তখন, কোচ হিসেবে এর চেয়ে বেশি তৃপ্তির কিছু হতে পারে না।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই কোহলির ব্যাটে রান বন্যা, সেটা জানা ছিল তাঁর। তিনি বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, সেও আত্মবিশ্বাসী ছিল। আমি নিশ্চিত ছিলাম সে দারুণ কিছু করতে যাচ্ছে।’
কয়েকটা ম্যাচ রান না পেলেই এই তারকাকে ঘিরে গেলো গেলো রব উঠে। সে ব্যাপারে তাঁর কোচ বলেন, ‘সবাই আসলে আশা করে সে মাঠে নামলেই ম্যাচ জিতিয়ে আসবে। আমার মনে হয় না ভারতের হয়ে কেউ এত ম্যাচ জেতাতে পারত। কিন্তু যখনই সে কিছু ম্যাচে রান পায় না, তখন সবাই ভাবে সে ফুরিয়ে গিয়েছে। এটা এমন নয়। ফর্ম ভাল, খারাপ হতে পারে কিন্তু তাঁর ক্লাস সবসময়ই দুর্দান্ত।’
তবে বিরাট কোহলিকে মানব থেকে অতিমানবে রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে বিয়ে তাঁকে আরো বেশি পরিপক্ব করে তুলেছে, স্নায়ুর ওপর আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ এনে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে ক্রিকেটগুরু রাজকুমার বলেন, ‘বিরাট শুরুর দিকে আগ্রাসী ছিল, এখনো খেলার মধ্যে সে আগ্রাসন দেখায়। কিন্তু বয়সের সাথে সাথে সে অনেক কিছু বুঝতে শিখেছে। যদি আপনি তাঁর সাথে কথা বলেন তাহলে টের পাবেন সে কতটা বিনয়ী। বিয়ের পর তো সে অনেক বেশি ধার্মিক এবং বিনয়ী হয়ে উঠেছে।’










