সালটা ২০০৮, ভারতীয় দলে তখন কিংবদন্তিদের ছড়াছড়ি। এরই মাঝে সূক্ষ্ম আলোর রেখার মত জ্বলে ওঠা একটা নাম চোখে পড়ল সবার। শচীন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়দের ভিড় ঠেলে উঠে এলেন বিরাট কোহলি।যার চোখের কোণে আগুনে আগ্রাসনের ছাপ, মনের ভেতর রান পাওয়ার অতৃপ্ত বাসনা।
গোটা পৃথিবী একদিকে আর বিরাট তখন ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থেকেছেন। তিনি এসেছিলেন বড় নাম হতে, তবে এ রাস্তার খোঁজ পাওয়া যে এত সহজ ছিল না। তবে দমে যাবার পাত্র তো বিরাট নন, থেমে গেলে তো আর বিরাট হওয়া যাবে না।
তাই তো পথ খোঁজার মিশনে নামলেন, সঙ্গী কেবল হাতে থাকা প্রিয় ব্যাট। ওটাই তো অন্ধকারে আলো দেখিয়েছে , মশাল হয়ে সব ভয় দূর করেছে। বিরাটও নিজের সাফল্যকে একা একাই উঠিয়ে এনেছেন মাটি খুঁড়ে।

এরপর থেকেই টেলিভিশনের পর্দা, গ্যালারি কিংবা রাস্তার পাশে বসে থাকা অন্ধ লোকটাও গর্জন তুলেছে ওই একটা নামে। কোহলিও আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন, বিশ্বাসের মুকুট মাথায় বিশালতার চূড়ায় নিজেকে নিয়ে গেছেন। তবে তাঁর কাজ শুধুই এটা ছিল না। তিনি প্রভাব বিস্তার করেছেন ভিন্ন আঙ্গিকে।
বিরাট কোহলি বদলে দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের মানসিক কাঠামো, দলের ডিএনএ-ই যেন হয়ে গেছে তাঁর প্রতিচ্ছবি। কোহলির আগে ভারতীয় ক্রিকেট ছিল শান্ত, মার্জিত। তাঁর আগমনে সেই ক্রিকেট সন্ধি করেছে আগুনের সাথে। তিনিই তো শিখিয়েছেন, আগ্রাসন মানেই বেপরোয়া নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ।
সেই আত্মবিশ্বাসেই ভারতীয় ক্রিকেট শিখল বিদেশের মাটিতেও আধিপত্য বিস্তার করতে। তাঁর নেতৃত্বে ভারত বদলে গেল এক নির্ভীক দলে। প্রতিটি খেলোয়াড়ের মধ্যে কোহলি ঢুকিয়েছেন শৃঙ্খলা, ক্ষুধা আর জয়ের তীব্র ইচ্ছা। জাসপ্রিত বুমরাহ, ঋষাভ পান্ত, মোহাম্মদ সিরাজ এই প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মধ্যে কোহলির ছায়া যেন স্পষ্ট।

তবে শুধু মাঠে পারফরম্যান্সেই সীমাবদ্ধ নয় তাঁর অবদান। বিরাট কোহলি ছিলেন ভারতের ফিটনেস বিপ্লবের স্থপতি। তাঁর আগে ফিটনেস ছিল নিয়ম, তাঁর পরে তা পরিণত হয় এক ধর্মে। তিনি দেখিয়েছেন সফল ক্রিকেটার হতে চাইলে প্রতিভা নয়, দরকার শরীর ও মানসিকতার নিখুঁত সংমিশ্রণ। তাঁর প্রভাবেই ইয়ো-ইয়ো টেস্ট, সিক্স-প্যাক, নিয়ন্ত্রিত ডায়েট সবই হয়ে ওঠে ভারতের ক্রিকেট সংস্কৃতির অংশ।
আর তাঁর আবেগ সেটা কখনও ব্যক্তিগত রেকর্ডের জন্য ছিল না। প্রতিটি মুষ্টিবদ্ধ হাত, প্রতিটি গর্জন ছিল ভারতের জন্য। তিনি শিখিয়েছেন দেশের জার্সি পরে কাঁদা, চিৎকার করা, গর্বে বুক ফুলিয়ে খেলা এগুলো দুর্বলতা নয়, শক্তি। আর ওটাই যে বিরাটকে বাস্তবিক অর্থেই বিরাট বানিয়েছে।











