কোহলির আবারও টেস্ট ক্রিকেটে ফেরাটা কি যৌক্তিক?

২০২৬ সালে বিরাট কোহলির টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার গুঞ্জন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর ভক্ত সমর্থকরাও চাইছে সাদা রঙের জার্সি গায়ে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আঙিনায় বিরাটকে দেখতে। কিন্তু বাস্তবতা হলো - টেস্ট ক্রিকেট আবেগ বা গল্পের জায়গা নয়। 

২০২৬ সালে বিরাট কোহলির টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার গুঞ্জন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর ভক্ত সমর্থকরাও চাইছে সাদা রঙের জার্সি গায়ে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আঙিনায় বিরাটকে দেখতে। কিন্তু বাস্তবতা হলো – টেস্ট ক্রিকেট আবেগ বা গল্পের জায়গা নয়।

লাল বলের ক্রিকেটে কোহলির অর্জন ইতোমধ্যেই সম্পূর্ণ। ১২৩ টেস্টে ৯,২৩০ রান, ৩০টি শতক – সংখ্যাগুলোই তাকে ভারতের সেরা টেস্ট ব্যাটারদের সারিতে স্থায়ী জায়গা দিয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে ৬৮ ম্যাচে ৪০ জয় তাকে ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়কও বানিয়েছে।

টেস্ট অধিনায়কত্বে সর্বকালের তালিকায় গ্রেম স্মিথ কিংবা রিকি পন্টিংদের সাথেই আসে তাঁর নাম। নামের পাশে রয়েছে গোটা সাতটি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোর কীর্তি।  তাই এখানে তাঁর নতুন কিছু অর্জনের সুযোগ খুব সীমিত বরং পুরোনো অর্জন নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ার ঝুঁকিই বেশি।

পরিসংখ্যানের দিকে দৃষ্টিপাত করলেও চোখে পড়ে নির্মম সত্য। ২০১১-২০১৯ সময়ে কোহলির গড় ছিল প্রায় ৫৪.৯৮। কিন্তু ২০২০-২০২৫ এর সময়টায় তা নেমে আসে প্রায় ৩০.৭৩ এ। এ থেকেই স্পষ্টত হয় যে, তাঁর অবসরের সিদ্ধান্তটা হঠাৎ করে কিংবা আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং সময় বুঝে নেওয়া এক বাস্তব পদক্ষেপ।

ভারতীয় ক্রিকেটে টেস্ট অবসর ভেঙে ফেরাটাও ঐতিহাসিকভাবে বিরল। জাভাগল শ্রীনাথের মতো ব্যতিক্রম কিছু চরিত্র থাকলেও তারা দ্বিতীয় অধ্যায়টা তেমন দীর্ঘ করতে পারেনি। কোহলির মতো বড় নাম ফিরলে সেটি শুধু ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত থাকবে না বরং নতুন সংস্কৃতি তৈরি হবে।

মোদ্দা কথায়, তিনি ফিরে এসে কিছু ভালো ইনিংস খেলতে পারেন। কিন্তু এতে করে টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর মাহাত্ম্য খুব একটা বাড়বে না। অন্যদিকে আশানুরূপ পারফরম্যান্স না করতে পারলে ক্যারিয়ারের উপসংহারটা হয়ে যেতে পারে কালিমালিপ্ত।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link