সাকিবকে দিয়ে কি করবে বাংলাদেশ!

কানপুর থেকে মিরপুর, মাঝের সময়টাতে পেরিয়ে যাবে ৫২৮ দিন। তবে দিন-তারিখের এসব হিসাব ছাপিয়ে সাকিব আল হাসান ফিরছেন দেশের ক্রিকেটে, এটাই জরুরি খবর। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়, এ দফায় তাঁর ফেরাটা কতদিনের জন্য স্বস্তিতে রাখবে বাংলাদেশকে, কিংবা তাঁকে নিয়ে পরিকল্পনাটা কী হবে?

কানপুর থেকে মিরপুর, মাঝের সময়টাতে পেরিয়ে যাবে ৫২৮ দিন। তবে দিন-তারিখের এসব হিসাব ছাপিয়ে সাকিব আল হাসান ফিরছেন দেশের ক্রিকেটে, এটাই জরুরি খবর। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়, এ দফায় তাঁর ফেরাটা কতদিনের জন্য স্বস্তিতে রাখবে বাংলাদেশকে, কিংবা তাঁকে নিয়ে পরিকল্পনাটা কী হবে?

যে জার্সিটা সাকিবকে চিনিয়েছে, সাকিবকে বিশ্বসেরা বানিয়েছে, সেটাই পরা হয় না দীর্ঘ সময়। চাপা আক্ষেপ বুকে পুষে অপেক্ষায় ছিলেন একটা সুযোগের। শেষমেশ সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে তাঁর জন্য। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তোড়জোড় চালাচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে পরবর্তী সিরিজেই সাকিবকে মাঠে নামাতে।

তবে একটা ধোঁয়াশা তো থেকেই যাচ্ছে, উঠে আসছে কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন। সাকিব ফিরলে কি তিন ফরম্যাটেই খেলবেন? খেললে কতদিনের জন্য? নাকি জাতীয় দলের জার্সিতে অবসর নেওয়ার জন্যই ফিরে আসছেন সাকিব?

বয়সের কাটাটা এখন প্রায় ৩৯ সংখ্যায় এসে দাঁড়িয়েছে। এই বয়সে তিন ফরম্যাটে সাকিব নিজের সেরাটা দিতে পারবেন কি ধারাবাহিকভাবে, তা নিয়ে সংশয় তো থেকেই যায়। আবার যদি বেছে বেছে খেলেন, সেটা কোন ফরম্যাট হবে?

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দল মোটামুটি ফিক্সড। এই জায়গায় সাকিবকে নিয়ে না ভাবলেও চলবে। কেননা দুই বছর অন্তর হওয়া বিশ্বকাপের লক্ষ্যেই দল গড়ে তোলার রীতি প্রচলন আছে এখন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে ২০২৮ সালে। সাকিবের বয়সটা দাঁড়াবে প্রায় ৪২-এর কোটায়। এমন একজনকে নিয়ে লম্বা সময়ের জন্য পরিকল্পনা সাজানো একটু বিপজ্জনকই বটে।

টেস্ট দলে আসা যাক। সাকিবের ফিটনেস, চোখের সমস্যা কিংবা বয়স, কোনো কিছুই টেস্ট খেলার উপযুক্ত নয়। ধৈর্য ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাটিং করার মতো সময়টা সাকিবের ফুরিয়েছে। যদিও চাইলে চালিয়ে নেওয়া যায়, তবে এই ফরম্যাটে সাকিবের প্রয়োজন যে খুব বেশি নেই।

সাকিবের জন্য আদর্শ ফরম্যাট এখন ওয়ানডে। এখানে যে বাংলাদেশের খুব বেশি দরকার তাঁকে। বর্তমান ওয়ানডে দল বড্ড বেশি এলোমেলো। মূল লক্ষ্যটা, কোনো রকমে যদি ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ করা যায়। দলকে পথ দেখানোর একজন লোক এখানে প্রয়োজন। সাকিবের চেয়ে ভালো নাম তাই পাওয়া দুষ্কর।

কোয়ালিটি অনুযায়ী সাকিব এখানে বেশ কার্যকর এক নাম হয়ে উঠবেন বাংলাদেশের জন্য। অন্তত ২০২৭ বিশ্বকাপটা অনায়াসে খেলে ফেলতে পারবেন।

সাকিব নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় নাম। এখনও অনেক কিছুই দেওয়ার আছে তাঁর। তবে সবকিছুরই যে একটা শেষ আছে, সবকিছুরই সময় যে ফুরায়। বাস্তবতা বলছে, সাকিবের দিন তাই উপসংহারের শেষ লাইনে দাঁড়িয়ে। এই অবস্থায় সাকিবকে নিয়ে বড় পরিকল্পনা বৃথা চেষ্টা বইকি।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link