ক্যারিয়ারের মধ্য গগণে এসে লিটন কুমার দাসকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে। বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের মিডল অর্ডারের ভঙ্গুর দশা মেরামতের একটা পন্থা হিসেবে ব্যবহার করা হবে এখন লিটন দাসকে। চার থেকে সাত, এমন ব্যাটিং পজিশনে লিটনের ক্যারিয়ারের নেই কোন উজ্জ্বল অধ্যায়।
টেস্টে লিটন নিয়মিত ছয় কিংবা সাত নম্বরে ব্যাটিং করেন। সেখানেই তার সিংহভাগ সফলতার গল্প। দ্বিতীয় নতুন বলটা সামলে নেওয়া, স্মিমিত হয়ে যাওয়া ম্যাচটাকে আক্রমণের ঝাঁজ যুক্ত করা- এসব দায়িত্ব বেশ দক্ষতার সাথে সামলে নিয়েছেন লিটন। কিন্তু ওয়ানডেতে লিটন মিডল অর্ডারে কখনোই ধারাবাহিকভাবে খেললেননি।
চার ও পাঁচ এই দুই পজিশনে স্রেফ দশটি ম্যাচ খেলেছিলেন লিটন দাস। পাঁচ নম্বরে অপেক্ষাকৃত ভাল পরিসংখ্যান রয়েছে লিটনের নামের পাশে। চার ইনিংসে ১৬৮ রান করেছেন ৫৬ গড়ে। একটি অপরাজিত ৯৪ রানের ইনিংস রয়েছে তার, সেই ব্যাটিং পজিশনে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

এছাড়া চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তিনি সর্বসাকুল্যে ছয় ইনিংসে জড়ো করেছেন ৮১ রান। আবার পাঁচ নম্বরে ওই একটি ইনিংস ছাড়া বাকি তিনটি ইনিংসে লিটনের রান যথাক্রমে ২০, ২২, ৩২। এমন পরিসংখ্যানকে সন্তোষজনক বলার উপায় তো নেই। অথচ এই লিটনকে মিডল অর্ডারের স্থিতিশীলতা চিন্তা করেই সুযোগ দিয়েছে, জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেল।
প্রশ্নটা হচ্ছে লিটন খেলবেন কই? পাঁচ নম্বর ব্যাটিং পজিশনটা তাওহীদ হৃদয়ের জন্য প্রায় সুনির্দিষ্ট বলা চলে। চারে লিটনের পরিসংখ্যান বেজায় বাজে। এর নিচের কোন ব্যাটিং পজিশনে লিটন তার আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্যারিয়ারে খেলেননি কখনো। লিটন ক্লিন হিটার, তার পক্ষে পাওয়ার হিটিংও সম্ভব নয়।
সেসব দিক বিবেচনায় তিন নম্বর হতে চলেছে লিটনের ব্যাটিং পজিশন। এক্ষেত্রে নাজমুল হোসেন শান্তকে ছাড়তে হচ্ছে নিজের জায়গা। যদিও গতবছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চার নম্বরেই ব্যাট করেছিলেন শান্ত। এই পজিশনে ওয়ানডেতে ছয় ইনিংসে ব্যাট করেছেন নাজমুল শান্ত। যার মধ্যে একটিতে সেঞ্চুরি ও আরেকটিতে পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস খেলেছেন। অতএব শান্তর জন্য মানিয়ে নিতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়।

কিন্তু লিটনের জন্য তিন নম্বর ব্যাটিং পজিশনটাও যে খুব সুখকর তাও না। ওই পজিশনে মোট ১৬ ইনিংস খেলেছেন লিটন। স্রেফ ১৭.৫৭ গড়ে ২৮৬ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। সুতরাং তিনি যে তিন নম্বরে খাপ খাওয়াতে পারবেন- সে কথাও জোর দিলে বলা যাচ্ছে না। এটাই বরং চ্যালেঞ্জ লিটনের জন্য। নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়ার কাজটা তাকে করতে হবে অতিদ্রুত।
যদিও টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক রান তিনি করেছেন ওই তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে। এখন দেখার বিষয়, ওয়ানডেতে লিটন নিজের নতুন দায়িত্ব কতটুকু সামলে নিতে পারেন। পুরনো পরিসংখ্যানের ভঙ্গুর দশার মাঝে তিনি হারিয়ে গেলে, দুশ্চিন্তার বাড়বে নির্বাচকদের কপালে।











