বাংলাদেশ ফুটবলের পরের লেয়ার কি?

সৎ সাহস নিয়ে এবং নিষ্ঠার সাথে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে কাজ করা শুরু করতে হবে যতদ্রুত সম্ভব। এই গণজোয়ার আবারও ভাটায় পরিণত হলে এই বাংলার ফুটবল তখন বনে যাবে এক কল্পকথা। 

হামজা চৌধুরিকে মাথায় তুলে নাচছেন সমর্থকরা। না, প্রতীকি অর্থে নয়- একেবারে সত্যি সত্যি মাথায় তুলে নেচেছে হংকংয়ে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকরা। ঘরের মাঠ দর্শক-সমর্থকে টইটুম্বুর হচ্ছে। বাংলাদেশ ফুটবলের পরবর্তী ধাপ কি হতে পারে? এমন একটা প্রশ্নের সহজ উত্তর হচ্ছে ‘রিবিল্ড’।

এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। পরবর্তী টুর্নামেন্ট হিসেবে রয়েছে ২০২৬ সালের সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ। তবে বাংলাদেশকে এদফা আরও বড় পরিসরে ভাবতে হবে। সত্যিকার অর্থেই বিশ্বকাপকে নিয়ে ছক-কষা শুরু করে দিতে হবে। তবে তার আগে প্রয়োজন একটা কার্যকর দল গঠন। তারও আগে প্রয়োজন, বড় পরিসরে কাজ করা একজন কোচ নিয়োগ।

হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তার একগুয়েমি স্বভাব রয়েছে। হামজা চৌধুরি, সামিত সোমদের মত খেলোয়াড়দের ঠিকঠাক ব্যবহারের রসদ তার মস্তিষ্কে রয়েছে কি-না সে প্রশ্ন রয়েই যায়। তাইতো বাংলাদেশকে একজন হাই প্রোফাইল কোচ অতি দ্রুত নিয়োগ দিতে হবে।

এরপর আগামী বছরের বিশ্বকাপ অবধি দল গঠনের পূর্ণ স্বাধীনতা ছেড়ে দিতে হবে সেই কোচের হাতে। এরপর হামজা, সামিত-সহ বংশদ্ভুত খেলোয়াড়দেরকে স্থানীয় খেলোয়াড়দের মেলবন্ধন ঘটাতে হবে আরও নিবিড়ভাবে। এক্ষেত্রে জামাল ভুঁইয়ার বয়স বেড়েছে, খুব লম্বা সময় হয়ত তার সার্ভিস পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে এশিয়ান কাপের প্রতিটি ম্যাচেই অস্বীকৃত অধিনায়ক রুপেই দেখা গিয়েছে হামজাকে। অতএব তাকে স্বীকৃত অধিনায়ক বানানে বরং তা দলের জন্যই মঙ্গল।

তার এলিট মেন্টালিটি, লড়াই করবার অদম্য স্পৃহা বাংলাদেশকে ম্যাচ জয়ের আগ পর্যন্ত উদযাপন করার মানসিকতা থেকে বেড়িয়ে আসতে সহয়তা করবে- সে বিষয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া যায়। এছাড়াও বংশদ্ভুত খেলোয়াড়দের আরও প্রসারিত বুকে আমন্ত্রণ জানানো প্রয়োজন।

একজন স্ট্রাইকারের অভাবে বাংলাদেশ গোল খরায় ভোগে, ম্যাচে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে পারছে না। তবুও বাছাইপর্বে তৃতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশ গোল করেছে পাঁচটি। অতএব একজন কিংবা দুইজন জাত স্ট্রাইকার এই দলটায় যুক্ত হলে, ঠিক কি ঘটবে তা নিশ্চয়ই আর কল্পনার বাইরের জগত নয়।

বাস্তবতা হচ্ছে, এখন রুট লেভেল ডেভেলপমেন্টের সুযোগ নেই। এখন বাংলাদেশকে কুইক সাকসেস অনুসন্ধান করতে হবে। বংশদ্ভুত, নেচারালাইজড খেলোয়াড়দের দিয়ে সাদ জিততে হবে, এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করতে হবে, সম্ভব হলে বিশ্বকাপে খেলব- এমন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে হবে।

তাতে করে ফুটবলের সাথে পৃষ্ঠপোষক বাড়বে। রুট লেভেলে কাজের স্পৃহা বাড়বে। ক্ষুদে খেলোয়াড়দের সামনে নিজস্ব রোল মডেল তৈরি হবে। সুতরাং সৎ সাহস নিয়ে এবং নিষ্ঠার সাথে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে কাজ করা শুরু করতে হবে যতদ্রুত সম্ভব। এই গণজোয়ার আবারও ভাটায় পরিণত হলে এই বাংলার ফুটবল তখন বনে যাবে এক কল্পকথা।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link