গুজরাটের জুজওয়া, ছোট্ট একটি গ্রাম, জনসংখ্যা মাত্র ৩২৪০। কিন্তু এই ছোট্ট গ্রাম পুরো দেশকে দেখিয়েছে কীভাবে স্বপ্ন বড় হতে পারে। যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হেনিল প্যাটেল। অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ফাইভার তুলে ভারতের নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ছোট্ট গ্রামজুড়ে তাই চলছে উৎসব।
সবার মুখে একটাই নাম, হেনিল প্যাটেল, ছেলেটা যে অধরা স্বপ্ন ছুঁতে এগিয়ে গেছে অনেকটা পথ। একেকটা বলে পাওয়া উইকেট যে তাই বিশেষ কিছু, গ্রামের মানুষদের কাছে গর্বের এক অধ্যায়।
হেনিলের ক্রিকেট যাত্রা শুরু হয়েছিল বুলসার জেলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মাঠে। ১৫ বছর বয়স থেকেই সে বেশ শক্তিশালী এবং প্রাণবন্ত। বলের উপর নিয়ন্ত্রণ, একই কাজ বারবার করে যাওয়া, সবই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। পরিশ্রমী, এবং মনোযোগ ধরে রাখার গুণটা তাই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করেছে।

বুলওয়েতে সেই ছাপটাও দেখা গেছে। দুই দিকেই বল ঘোরানো, কখনো ইনসুইং, কখনো আউটসুইংয়ে ব্যাটারকে পরাস্ত করা। উচ্চতা কাজে লাগিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং করা, সাত ওভারের স্পেলে সবটাই দেখিয়েছে সে। পুরষ্কার স্বরূপ নামের পাশে যোগ হয়েছে পাঁচ-পাঁচটা উইকেট।
ছেলেবেলা থেকেই হেনিল আদর্শ মানতেন ডেল স্টেইনকে। নীরব আগ্রাসন দেখে বড় হওয়া হেনিলও তাই হাঁটছেন, ওই আগ্রাসন পুঁজি করেই।
এখনও পাড়ি দিতে হবে অনেকটা পথ। তবে কঠোর অধ্যাবসায় যার মনের ভিতরে আছে, সে কঠিন বাধাও টপকে যেতে পারে অনায়াসে। হেনিলের এই গুণ আছে। বুকের ভেতর আছে স্টেইনের গতিশীল বাউন্সারের উদ্দীপনা। হেনিল তাই বড় হবেন, হয়তো আবারও এক সন্ধ্যায় উৎসবের রঙে ছেয়ে যাবে গোটা জুজওয়া।












