বন্ধু চল, বলটা দে, রাখবো হাত তোর কাঁধে। সেই বন্ধুত্ব কোনো দেশ মানে না, কোনো সীমান্ত মানে না। কাঁটাতারের বেড়াও কখনও কখনও জয় করা যায় বন্ধুত্ব দিয়ে। বন্ধুত্বের সিম্ফনি বাজিয়ে কখনও চাইলে যুদ্ধ জয় করা যায়। যেমনটা করলেন নিজাকাত খান এবং আনশুমান রাঠ। একজন পাকিস্তানি, অন্যজন ভারতীয়, তবুও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করলেন। কাগজে কলমে এখন তাঁরা হংকংয়ের। কিন্তু, নিজাকাত খানের জন্ম পাকিস্তানের পাঞ্জাবের অ্যাটক শহরে, অন্যদিকে আনশুমান রাঠ ওরিষার ছেলে। ওরিষার হয়ে রীতিমত রঞ্জি ট্রফি খেলেছেন তিনি।
কিন্তু তাঁরা হংকংয়ের হয়ে খেলেন কাধে কাঁধ মিলিয়ে। গল্পেরা ওই ঘাসে, তোর টিমে, তোর পাশে। একই দলের জার্সিতে আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখেন। এখানে কোনো বৈরিতা নেই, এখানে শুধুই দায়িত্বের ভার আর বন্ধুত্বের প্রতিচ্ছবি।
ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক টানপোড়েনটা বিভাজন সৃষ্টি করেছে ক্রিকেট মাঠেও। খেলোয়াড়রা সৌহার্দ্য ভুলে, রেশারেষির প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। ম্যাচ শেষে সামান্য হাত মেলানোটাই যেন বড় অপরাধ। এরই মধ্যে হংকংয়ের এই দুই খেলোয়াড় গড়ে তুললেন অনন্য নজির।

নিজাকাত খান পাকিস্তানি, আর আনশুমান রাঠ ভারতীয়। নিজ দেশের কিছুটা হলেও নিশ্চয় ধারণ করেন তাঁরা। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেসব ভুলে গেলেন, ব্যাট হাতে একসাথে লড়াই করলেন দলের জন্য।
কাগজে কলমে শ্রীলঙ্কা যোজন যোজন এগিয়ে। ইতবে তাতে কি, মাঠে নামলে যে সবাই একই, সবাই প্রতিযোগী। ব্যাট হাতে আনশুমান রাঠ আর জিসান আলীর ভয়ডরহীন সূচনা। জিসান ফিরে গেলে, তিনে নামা বাবর হায়াতও ক্রিজে টিকতে পারলেন না বেশিক্ষণ। ভালো শুরুর পর স্বল্প সময়ের ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে হংকং।
এরপরই একসাথে চাপ কাঁধে তুলে নেন রাঠ এবং নিজাকাত। দুজনের ব্যাট থেকে আসে ৬১ রানের জুটি। আর ওখানেই গড়ে ওঠে হংকংয়ের লড়াই করার ভিত। ৪৮ রানে আনশুমান থামেন, তবে নিজাকাত ঠিকই ফিফটি তুলে নেন। শেষপর্যন্ত স্কোরবোর্ডে হংকং তোলে ১৪৯ রান। যার পুরো কৃতিত্বটাই এই জুটির।

একদিন আগেই ভারত-পাকিস্তানের দ্বৈরথ দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। তবে সেখানে ক্রিকেটীয় স্বত্ত্বার তেমন কিছুই ছিল না, ছিল না একে অপরের প্রতি সম্মান। ম্যাচ রাজনৈতিক বৈরিতার জের ধরে হাতও মেলায়নি দু’দলের খেলোয়াড়রা। অথচ একদিন পরেই নিজাকাত-রাঠ জুটি প্রমাণ করে দিলেন ক্রিকেট সত্যিকার অর্থে কাঁটাতারের বিভেদ মানে না।











