কোহলির চোখে অপরিচিত মুশির খান

পুরো আইপিএল জুড়ে একটিও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি, অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই হঠাৎ করেই নামতে হলো তাকে। সেই মুহূর্তে ক্যামেরা ধরল কোহলিকে। তার মুখভঙ্গি, চোখের চাহনি যেন বলছে — ‘এই ছেলেটা কে?’

পাঞ্জাব কিংসের ব্যাটিং অর্ডার তখন ভেঙে চুরমার। ঠিক তখনই ব্যাট হাতে ক্রিজে নামছেন এক তরুণ—মুশির খান। পুরো আইপিএল জুড়ে একটিও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি, অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই হঠাৎ করেই নামতে হলো তাকে। সেই মুহূর্তে ক্যামেরা ধরল কোহলিকে। তার মুখভঙ্গি, চোখের চাহনি যেন বলছে— ‘এই ছেলেটা কে?’

মুশির যখন ব্যাটিংয়ে এলেন তখন স্লিপে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিরাট কোহলি। ধারাভাষ্যকার ম্যাথু হেইডেন তখন বলছিলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে বিরাট তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এটা কোনো সাধারণ ম্যাচ নয়। প্লে-অফের মঞ্চ, আর তুমি একজন নবাগত।’

পাশ থেকে হার্শা ভোগলে রসিকতা করে বলেন, মুশির যদি জবাব দিত, তাহলে হয়তো বলতো — ‘আপনি আমার ভাই সরফরাজ খানকে চেনেন তো? ভারতের হয়ে ১৫০ রান করেছিলেন।’

তবে ব্যাট হাতে মুশির খানের অভিষেকটা মোটেই স্মরণীয় হয়নি। তিন বল খেলে শূন্য রানে ফিরতে হয় তাকে। পাঞ্জাব কিংসও গুটিয়ে যায় মাত্র ১৪.১ ওভারে ১০১ রানেই।

কিন্তু মুশির একা নন, এদিন পাঞ্জাব কিংসের ব্যাটিং অর্ডারটাই অসহায় ছিল। গোটা মৌসুমে যারা প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে খেলেছে, সেই দলটাই নিজেদের ঘরের মাঠে যেন হারিয়ে ফেলে ইনিংসের শুরুতেই।

মুশির অবশ্য পুরোপুরি অপরিচিত নাম নয়। আগের রঞ্জি ট্রফি মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তিনি — মাত্র পাঁচ ইনিংসে করেছিলেন ৪৩৩ রান, গড় ১০৮-এর ওপরে। তবে তারপর ঘটে এক মর্মান্তিক ঘটনা—গাড়ি দুর্ঘটনায় দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে। অনেকদিন পর স্থানীয় টি-টোয়েন্টি লিগের মাধ্যমে আবার মাঠে ফেরেন। তারপর পাঞ্জাব কিংসের স্কোয়াডে সুযোগ।

কিন্তু অভিষেকটা হলো এমন এক মঞ্চে, যেখানে ভুলের কোনো জায়গা নেই। আর প্রতিপক্ষ স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা নামটা যদি হয় বিরাট কোহলি, তাহলে চাপ আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবে, এখনও সুযোগটা আছে পাঞ্জাবের, সুযোগ আছে মুশির খানেরও। ব্যর্থতা ভুলে কি ঘুরে দাঁড়াবে পাঞ্জাব কিংস? কোহলির না চেনার ভঙ্গিকে টেক্কা দিয়ে মুশির নিজের নামটা লিখতে পারবেন কি ব্যাট হাতে?

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link