ঘরোয়ার রাজা মোসাদ্দেক কেন ব্যর্থ জাতীয় দলে?

ঘরোয়া লিগ আর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত যেন একই সুতোয় গাঁথা। ঘরোয়ার মঞ্চে তিনি অনন্য, অনবদ্য। ঢাকা বিভাগের হয়ে ৩২ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলে সে কথারই প্রমাণ দিলেন আবারও। তবে জাতীয় দলে সুযোগ পেলে কি হয় তাঁর, কেন ব্যর্থ হন বারবার?

ঘরোয়া লিগ আর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত যেন একই সুতোয় গাঁথা। ঘরোয়ার মঞ্চে তিনি অনন্য, অনবদ্য। ঢাকা বিভাগের হয়ে ৩২ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলে সে কথারই প্রমাণ দিলেন আবারও। তবে জাতীয় দলে সুযোগ পেলে কি হয় তাঁর, কেন ব্যর্থ হন বারবার?

এনসিএলের তৃতীয় ম্যাচে ঢাকা বিভাগের হয়ে ব্যাট হাতে পাঁচ নম্বরে নামলেন মোসাদ্দেক। আর নেমে খুনে মেজাজে ব্যাট চালালেন। একেকটা বলের ঠিকানা হলো বাউন্ডারির ওপারে।

শেষপর্যন্ত অপরাজিত থাকলেন ৬৪ রানে। পাঁচ চার আর চার ছক্কায় ইনিংসের স্ট্রাইক রেট ছিল, কাটায় কাটায় ২০০। এই ইনিংসের সুবাদে স্কোরবোর্ডে দলের রান দাঁড়াল ১৭১। তবে সৈকতের এমন পারফরম্যান্স কেবল জন্ম দেয় আফসোসের। তিনিই যখন জাতীয় দলে আসেন তখনই হোচট খান। এমন ঘটনা কেন হয়?

উত্তরটা একেবারেই সহজ। সৈকত এই ম্যাচে ব্যাট করেছেন পাঁচ নম্বরে, তবে জাতীয় দলে তাঁর জায়গা হয় সাত, আটে। এই পজিশনের গ্যাড়াকলে পড়ে নিজেকে বারবার জলাঞ্জলি দিতে হয়।

পাঁচ নম্বর আর সাত নম্বর পজিশনের পার্থক্যটা বড় ব্যাবধান তৈরি করে। সাতে খেললে পেছনে আর কোন ব্যাটার থাকে না, ফলে নিজের উইকেট বাঁচানোতে তখন বাড়তি নজর রাখতে হয়। এমনকি পর্যাপ্ত বলও কখনো কখনো থাকে না।

তাই ব্যাটারকে দ্বিধাদন্দে ভুগতে হয়—ব্যাট চালাবেন নাকি উইকেট বাঁচাবেন। আর দুই নৌকোয় পা দিয়ে চলতে না পারাটায় কাল হয়ে দাঁড়ায়। যার শিকার মোসাদ্দেক হয়েছেন বারবার।

কিছুদিন আগেও ডিপিএলের মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, ব্যাটে বলে। যৌথভাবে এবারের আসরে সর্বোচ্চ ৩০ উইকেট নামের পাশে যোগ করেন এই অফ স্পিনার। ব্যাট হাতেও ৪৮.৪৭ গড়ে করেছেন ৪৮৭ রান। পেয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরার খেতাব।

এনসিলের শুরুটাও হলো বেশ ভালোভাবেই। প্রথম ম্যাচেই হলেন জয়ের নায়ক। ১৭২ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামা রংপুর গুটিয়ে গেল ১০০ রানেই। বল হাতেও সৈকত শিকার করেছেন এক উইকেট।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রচলিত প্রথা—একজন খেলোয়াড় ভালো খেললেই তাঁকে দলে টেনে আনা। ফরম্যাট কিংবা পজিশন যেখানে কোন বাধা সৃষ্টি করেনা। তাই তো মোসাদ্দেক ঘরোয়াতে পাঁচ নম্বরে ভালো খেললে তাঁকে জাতীয় দলে খেলানো হয় সাত নম্বরে। আর এতেই মূলত ঘরোয়ার রাজা হয়েও জাতীয় দলে ব্যর্থ হন সৈকতরা।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link