‘ইম্প্যাক্ট সাব’ নিয়মেও মুস্তাফিজের রাস্তা সংকীর্ণ

নিয়মের মারপ্যাচে তার সম্ভাবনা ভূমির সাথে শূন্য ডিগ্রি কোণ সৃষ্টি করে চলমান। এক্ষেত্রে কন্ডিশন, প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা বিবেচনায় মুস্তাফিজকে নিয়ে পরিকল্পনা সাজাবে কলকাতা নাইট রাইডার্স। 

‘মুস্তাফিজুর রহমান কিভাবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের একাদশে সুযোগ পাবেন’- তা নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে হিসেব-নিকেশ। কেউ কেউ তো বলেই বসছেন, ‘প্রতিটি ম্যাচেই খেলবেন মুস্তাফিজ’। কেননা আইপিএলে তো রয়েছে ‘ইম্প্যাক্ট সাব’। বিদেশি ব্যাটারকে তুলে নিয়ে কলকাতা খেলিয়ে দেবে মুস্তাফিজকে। কিন্তু বিষয়টা মোটেও ততটা সহজ নয়, চাইলেই এমনটা করতে পারবে না নাইট রাইডার্স টিম ম্যানেজমেন্ট।

বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি পারিশ্রমিক পেয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের মিনি নিলামে তাকে দলে নেওয়ার জন্য মরিয়া ছিল ফ্রাঞ্চাইজিটি। স্বাভাবিকভাবেই সেই বিষয়টি তাদের আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আগ্রহ থাকলেই যে মুস্তাফিজকে প্রতি ম্যাচে খেলানো হবে বিষয়টি তেমন নয়।

একাদশে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে মুস্তাফিজের মূল লড়াইটা হবে মূলত মাথিশা পাথিরানার সাথে। পাথিরানা ব্যর্থ না হলে, মুস্তাফিজকে শুরুর একাদশে দেখতে না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এক্ষেত্রে চাইলেই ইম্প্যাক্ট সাব হিসেবে মুস্তাফিজকে ব্যবহারের সুযোগ নেই। কেননা আইপিএলের নিয়মানুসারে একটি ম্যাচে, সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি খেলোয়াড় ব্যবহার করা যাবে।

এমনকি ইম্প্যাক্ট সাব হিসেবে বিদেশি খেলাতে হলে, প্রথম একাদশে তিনজন বিদেশি খেলোয়াড় ব্যবহার করতে পারবে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো। কলকাতার স্কোয়াড বিবেচনায়, পাথিরানাকে ধ্রুব ধরে বিদেশিদের জন্য জায়গা বাকি আর তিনটি। যার মধ্যে ওপেনিংয়ে টিম সাইফার্ট, লোয়ার মিডল অর্ডারে ক্যামেরুন গ্রিন, স্পিন ডিপার্টমেন্টে সুনীল নারাইন- এই চারজনকে প্রাথমিক পরিকল্পনায় রাখবে কলকাতা, সেটা এক প্রকার অনুমিত।

এই চারজনের মধ্যে থেকে ইম্প্যাক্ট সাব করিয়ে কেবলমাত্র ভারতীয় খেলোয়াড়কেই নামাতে পারবে নাইট রাইডার্স। অন্যদিকে পাথিরানা ও মুস্তাফিজ দুইজনের একসাথে একাদশে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা আরও কম। কেননা তারা দুইজনই ডেথওভার স্পেশালিস্ট, তাছাড়া কলকাতার পেস ডিপার্টমেন্ট সামলানোর জন্য হার্শিত রানা, আকাশদ্বীপের মত চরিত্ররা রয়েছেন। গ্রিনও পেস বলটা করতে জানেন।

রভম্যান পাওয়েলের মত পাওয়ার হিটার আছেন কলকাতার স্কোয়াডে। সেই সাথে রাচিন রবীন্দ্রর মত কার্যকর অলরাউন্ডার। অতএব ইম্প্যাক্ট সাব হিসেবে মুস্তাফিজের প্রতিটি ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা খুবই কম। নিয়মের মারপ্যাচে তার সম্ভাবনা ভূমির সাথে শূন্য ডিগ্রি কোণ সৃষ্টি করে চলমান। এক্ষেত্রে কন্ডিশন, প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা বিবেচনায় মুস্তাফিজকে নিয়ে পরিকল্পনা সাজাবে কলকাতা নাইট রাইডার্স।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link