জয়সওয়ালের ‘কোহলি-সুলভ’ পরিপক্বতা

চেন্নাইয়ের বিপক্ষে ম্যাচে রান তাড়া করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালসের বিস্ময়কর বালক বৈভব সুরিয়াভানশি যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছিলেন। আর তাকে বড় ভাইয়ের মতো দিক নির্দেশনা দিয়ে অপর পাশ আগলে রেখেছিলেন জয়সওয়াল।

ক্রিকেট মাঠে আগ্রাসন আর চিতার গতিতে রান তোলা তো রোজকার দৃশ্য। কিন্তু কখনো কখনো ২২ গজের মহাকাব্যে বিধ্বংসী স্ট্রোকপ্লের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে উদার মানসিকতা। গুয়াহাটির বারসাপাড়া স্টেডিয়ামে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে যেন ঠিক সেই বিরল দৃশ্যেরই সাক্ষী থাকল ক্রিকেট বিশ্ব। আর এই পরিপক্কতার কারিগর তরুণ তুর্কি যশ্বসী জয়সওয়াল।

চেন্নাইয়ের বিপক্ষে ম্যাচে রান তাড়া করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালসের বিস্ময়কর বালক বৈভব সুরিয়াভানশি যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছিলেন। আর তাকে বড় ভাইয়ের মতো দিক নির্দেশনা দিয়ে অপর পাশ আগলে রেখেছিলেন জয়সওয়াল। জয়সওয়ালের এই দায়িত্বশীলতার জন্যেই তাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ভারতীয় ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়া। চোপড়ার মতে, যশস্বীর এই আচরণের মধ্যে তিনি বিরাট কোহলির প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান।

নিজের বিশ্লেষণে চোপড়া বলেন, ‘যশ্বসী যে পরিণত বোধ দেখিয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। অন্য প্রান্তে যখন মারকাটারি ব্যাটিং চলছে, তখন সে নিজেকে গুটিয়ে রেখে সতীর্থকে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। এটাই তো কোহলি-সুলভ আভিজাত্য।’

ম্যাচে ৩৬ বলে ৩৮ রান করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন জয়সওয়াল। আকাশ চোপড়ার ভাষায়, ক্রিকেটে একজন সুপারস্টার হয়ে ওঠার অন্যতম শর্ত হলো নামের পাশে ‘স্টার’ বা অপরাজিত থাকার চিহ্ন বহন করা। বিশেষ করে রান তাড়া করার সময় শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে দলকে জেতানোই একজন ব্যাটারকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। জয়সওয়াল ঠিক সেই কাজটিই করেছেন নিপুণভাবে।

১২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সুরিয়াভানশি ও জয়সওয়ালের ৭৫ রানের বিধ্বংসী উদ্বোধনী জুটি ম্যাচটিকে চেন্নাইয়ের নাগালের বাইরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ধ্রুব জুরেল ও অধিনায়ক রিয়ান পরাগের সাথে ছোট ছোট কিন্তু কার্যকরী জুটি গড়ে আট উইকেটের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন জয়সওয়াল।

গুয়াহাটির এই জয় কেবল রাজস্থান রয়্যালসের পয়েন্ট টেবিলে আধিপত্য বাড়াল না, বরং ক্রিকেট বিশ্বকে জানিয়ে দিল – যশস্বী জয়সওয়াল কেবল রান সংগ্রাহক নন, তিনি খেলার ‘লার্জার পিকচার’ বা বৃহত্তর প্রেক্ষাপট বুঝতে শেখা এক ধুরন্ধর ক্রিকেট মস্তিস্ক।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link