ভারতীয় ক্রিকেটে বড় পরিবর্তনগুলো ঘটে ড্রেসিংরুম কিংবা মাঠের কোলাহলে নয়, বরং নীরবে নিভৃতে- নেটের আড়ালে। সম্প্রতি তেমনই একটি ছোট ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে। সেই দৃশ্যে দেখা যায় যুবরাজ সিং কথা বলছেন, আর তা গভীর মনযোগে শুনছেন সঞ্জু স্যামসন। দৃশ্যটা সাধারণ কোনো অনুশীলনের মতো মনে হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে আছে ভারতের ব্যাটিং দর্শনের বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত।
যুবরাজ সিং বর্তমানে কোনো অফিসিয়াল কোচ নন। তাঁর হাতে নেই কোনো পদবি বা দায়িত্বপত্র। তবুও যেন তিনি প্রভাব ফেলছেন নীরবে। সেই প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে এক ব্যাটারের ভাবনায়, আরেক ব্যাটারের শটের টাইমিংয়ে।
বর্তমান সময়ে স্ট্রাইক রেট যেন পারফরম্যান্সের সর্ববৃহৎ মানদণ্ড। একটি ধীর ইনিংস প্রশ্ন তোলে মানসিকতা নিয়ে, আর একটি অভিনব শট হয়ে ওঠে পরিচয়ের অংশ। ভয়ডরবিহীন ক্রিকেট – এখন জনপ্রিয় স্ট্র্যাটেজি, কিন্তু এই স্ট্র্যাটিজিই অনেক সময় তরুণদের ভুল পথে নিয়ে যায়। যুবরাজ সিং এই বিভ্রান্তির জায়গাটা খুব ভালো করেই চেনেন।

তিনি নিজেই ছিলেন নির্ভীকতার এক মূর্ত প্রতীক। আবার অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন যে, স্পষ্ট ভাবনা ছাড়া সাহস চাপের মুখে ভেঙে পড়ে। তাঁর বার্তাটা তাই সহজ কিন্তু গভীর, নিজের খেলার ধরনকে নিজের মতো করে গ্রহণ করো, শট বাছাইয়ের দায়িত্ব নিজে নাও, আর তার ফলও মেনে নিতে শেখো।
এই জায়গাতেই সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের তাৎপর্য। সঞ্জুর প্রতিভা কখনোই সন্দেহের বিষয় ছিল না। কিন্তু ধারাবাহিকতাই তাকে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত করে তুলতে বারবার বাধা দিয়েছে।
যুবরাজের এই মেন্টরশিপ নতুন কিছু নয়। শুভমান গিল ও অভিষেক শর্মার সঙ্গে তাঁর কাজ করার গল্প ইতিমধ্যেই বহুবার উঠে এসেছে। এই সম্পর্কগুলোর বিশেষত্ব হলো এগুলো কৌশল পরিবর্তনের গল্প নয়। যারা কাছ থেকে দেখেছেন, তারা বলেছেন। যুবরাজ ব্যাট বদলাননি, বদলেছেন দৃষ্টিভঙ্গি।

যুবরাজের কাজকে যদি নিবিড়ভাবে দেখা হয়, তাহলে বোঝা যায় – এটা কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়। তিনি বারবার উচ্চ সম্ভাবনাময় ব্যাটারদের বেছে নিচ্ছেন এবং নীরবে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রভসিমরন সিং ও প্রিয়ানশ আরিয়া সঙ্গেও তাঁর কাজ করার খবর সামনে এসেছে। আর সবচেয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ নাম এখন রামনদীপ সিং। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে যিনি এখন পরিচিত মুখ। তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যুবরাজের নেপথ্যের সহায়তার কথা।
সবকিছু মিলিয়ে ছবিটা স্পষ্ট। যুবরাজ সিং ভারতের নির্ভীক ব্যাটিং ভবিষ্যৎ গড়ছেন একেকজন ব্যাটারকে কেন্দ্র করে। তিনি তরুণদের শুধু আক্রমণ করতে শেখান না, শেখান আক্রমণকে বিশ্বাস করতে। শেখান কীভাবে সামলাতে হয় মানসিক চাপ।
ভারতের নির্ভীক প্রজন্ম শুধু লিগে জন্ম নিচ্ছে না, তারা গড়ে উঠছে নিঃশব্দ অনুশীলনে। এমন একজন মানুষের হাত ধরে, যিনি একসময় ভারতীয় ব্যাটিংয়ের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছিলেন, আর এখন চান নতুন প্রজন্ম সেই কাজটা করুক আরও পরিণতভাবে, আরও নির্ভয়ে।











