জাসপ্রিতের ‘মাস্টারক্লাস’ হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে

এক বুমরাহের মাস্টারক্লাসের কাছেই ইংল্যান্ডের বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন হয়েছে ধরাশায়ী। বুমরাহের দুর্ধর্ষ বোলিং স্পেলে সাত রানের শ্বাসরুদ্ধকর এক জয় লেখা হয় ভারতের নামের পাশে।

জাসপ্রিত বুমরাহ বিশ্বসেরা। ২৫৪ রান টার্গেটের ম্যাচেও তিনি দেখিয়েছেন নিজের মুন্সিয়ানা। প্রতিটা বোলারই যেখানে বেধম প্রহারের ভুক্তভোগি, সেখানে শেষ পাঁচ ওভারের দু’টোতে তার সর্বমোট খরচ ১৪ রান। সেখানেই মূলত ইংল্যান্ডের হাত থেকে ফসকে যায় ম্যাচ। শেষ অবধি বুমরাহের দুর্ধর্ষ বোলিং স্পেলে সাত রানের শ্বাসরুদ্ধকর এক জয় লেখা হয় ভারতের নামের পাশে।

এক বুমরাহের মাস্টারক্লাসের কাছেই ইংল্যান্ডের বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন হয়েছে ধরাশায়ী। পাঁচ ওভারে দলটির জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬৯ রান। একটু এদিক-ওদিক হলেও ম্যাচটা পুরোপুরি চলে যেত ইংরেজদের পকেটে। এমন সময় বোলিং প্রান্তে এলেন জাসপ্রিত বুমরাহ। ষোলতম ওভারটিতে দিলেন মোটে আটটি রান।

একেরপর এক ইয়োর্কারে তিনি ইংরেজ ব্যাটারদের আবদ্ধ করে ফেলেন পপিং ক্রিজের ভিতরে। শেষ ১৮ বলের ১৪টাই ইয়োর্কার মেরেছেন জাসপ্রিত। ওই সব বলে একটি রান বের করাই দুষ্কর, যেখানে প্রয়োজন ছিল প্রতি দুই বলে অন্তত একটি করে বাউন্ডারি। শুধু তাই নয়, ওয়াংখেড়ের ছোট বাউন্ডারির মাঠে গতিতে বল করলেই তা ব্যাটের কোণার ছোঁয়ায় বাউন্ডারির ওপারে চলে যেতে পারে।

সেই বিষয়টি মাথায় রেখে নিজের ছোড়া ৬৪ শতাংশ বলেই গতি দেননি বুমরাহ। ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের সমস্ত পরিকল্পনার পাকা ধানে নিজের বুদ্ধিমত্তায় সময়ে সময়ে মই ঢেলে দেন জাসপ্রিত। ইংল্যান্ডের কফিনের শেষ পেরেকটি ছিল ইনিংসের ১৮ তম ওভার। ইংল্যান্ডের জিততে রান প্রয়োজন ৪৫ রান।

ওই সময়ে এসে বুমরাহ দিলেন মোটে ছয়টি রান। আর ওই ছয়টি রানই পরবর্তীতে হার্দিক পান্ডিয়া ও শিভাম দুবেদের দিয়েছে লাইফলাইন। শেষ অবধি সাত রানে ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেছে ভারত। বুমরাহের সেই দু’টি ওভারের মাহাত্ম্য ঠিক কতটুকু তা আর শব্দের খেলায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link