ভঙ্গুর টপ অর্ডার কি পারবে এবার হাল ধরতে ?

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পৌঁছে প্র্যাকোটিস সেশনে নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম করছে বাংলাদেশ দল। ২৩ বছর পর আবারও ক্যাঙ্গারুর দেশে টেস্ট চ্যালেঞ্জ, ১৩ আগস্ট থেকে শুরু প্রথম টেস্ট ম্যাচ। কিন্তু মাঠে নামার আগেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে—বাংলাদেশের টপ অর্ডার এবার কতটা প্রস্তুত?

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পৌঁছে প্র্যাকটিস সেশনে নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম করছে বাংলাদেশ দল। ২৩ বছর পর আবারও ক্যাঙ্গারুর দেশে টেস্ট চ্যালেঞ্জ, ১৩ আগস্ট থেকে শুরু প্রথম টেস্ট ম্যাচ। কিন্তু মাঠে নামার আগেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে—বাংলাদেশের টপ অর্ডার এবার কতটা প্রস্তুত?

কারণ অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে টিকে থাকার প্রথম শর্তই হলো শুরুটা শক্ত করা। নতুন বলের গতি, অতিরিক্ত বাউন্স আর সুইং সামলাতে হবে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিপক্ষে। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড ও স্কট বোল্যান্ডদের সামনে সামান্য ভুলের সুযোগও থাকবে না।

এই কঠিন পরীক্ষার আগে বাংলাদেশের টপ অর্ডার নিয়ে স্বস্তিতে নেই টিম ম্যানেজমেন্ট। মূল প্রশ্ন—তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে থাকবেন কে? পাঁচ বছর পর টেস্ট দলে ফেরা সৌম্য সরকার, নাকি দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা সাদমান ইসলাম?

সাম্প্রতিক সিরিজগুলোর পারফরম্যান্সই এই আলোচনার মূল কারণ। জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রত্যাশা অনুযায়ী রান করতে না পারায় দল থেকে বাদ পড়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়। তার জায়গায় আবারও সুযোগ এসেছে সৌম্য সরকারের সামনে।

২০১৫ সালে টেস্ট অভিষেকের পর শুরুটা হয়েছিল দারুণ সম্ভাবনা নিয়ে। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দিয়ে দ্রুত নজর কেড়েছিলেন সৌম্য। তবে ধারাবাহিকতার অভাবে দীর্ঘদিন ছিলেন দলের বাইরে। এবার তার অভিজ্ঞতা, পেস বোলিং খেলার দক্ষতা এবং বিদেশি কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার সামর্থ্যকে কাজে লাগাতে চাইছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে সাদমান ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে টেস্ট দলের টপ অর্ডারের অংশ। ধৈর্যশীল ব্যাটিং তার শক্তি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় ইনিংসের ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। তানজিদ হাসান তামিম সীমিত ওভারে আগ্রাসী ব্যাটিং দিয়ে নজর কেড়েছেন, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটে টেস্ট ক্রিকেটের নতুন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে তার জন্য।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর চিত্রও একই কথা বলে। টপ অর্ডার শুরুতেই ব্যর্থ হলে চাপ চলে যায় বর্তমান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হকের ওপর। তারা উইকেটে থেকে লড়াই গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে, কিন্তু শুরুতেই ধস নামলে কঠিন হয়ে যায় পরিস্থিতি।

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফিরে তাই বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে পারে নিজেদের টপ অর্ডার। এবার কি তারা শান্ত-মুমিনুলদের ওপর থেকে সেই বাড়তি চাপ কমাতে পারবে, নাকি আবারও পুরোনো গল্পের পুনরাবৃত্তি হবে?

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link