মিসবাহ উল হকের একটা স্কুপ শট। সেখান থেকেই বদলে গেলে সবকিছু। ভারতের হাতে উঠল শিরোপা, নিছক ট্রায়াল থেকে সৃষ্টি হল এক রমারমা ব্যবসা। ক্রিকেট দুনিয়ার মানচিত্র পালটে গেল ওই একটি শটে।
২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসেছিল নতুন ফরম্যাটের প্রথম বৈশ্বিক আসর। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেবার হয়ত সবচেয়ে সিরিয়াস দলটা ছিল পাকিস্তান। ভারত এই টুর্নামেন্টকে সেই অর্থে পাত্তা দেয়নি বলেই ধারণা ছিল সকলের। কেননা অনভিজ্ঞ মহেন্দ্র সিং ধোনির হাতে অধিনায়কের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল দেশটির ক্রিকেট বোর্ড।
কিন্তু মহেন্দ্র সিং ধোনি ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েই হাজির হয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বুকে। তার কাছে চ্যালেঞ্জটা ছিল নিজেকে প্রমাণের। তিনিও হয়ত ঘুনাক্ষরে টের পাননি, তার হাত ধরেই বিশ্ব ক্রিকেটে আমুল পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। তিনি স্রেফ টুর্নামেন্ট জেতার দিকেই রেখেছিলেন মনোযোগ।

চিরপ্রতিদ্বন্দী পাকিস্তানের সাথে মোলাকাতে ম্যাচ জিতলেন। বৃষ্টির বাঁধায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি মাঠেই গড়াল না। টেবিল টপার হয়ে সুপার এইটে ওঠে ভারত। দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে পাকিস্তানও কাটে সুপার এইটের টিকিট। নিজেদের গ্রুপে দুই জয়ে ভারত পেল গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের মর্যাদা। সহায় হল রানরেটের হিসেব-নিকেশ।
অন্যদিকে পাকিস্তান দেখিয়েছে দাপট। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের তিনটিই জিতে সেমিফাইনালে পা রাখে শোয়েব মালিকের পাকিস্তান। সেমিতে ভারতের প্রতিপক্ষ সেই অস্ট্রেলিয়া। যুবরাজ সিংয়ের কল্যাণে ১৫ রানের জয় নিয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে ভারত।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডকে ছয় উইকেটে হারিয়ে আরেক ফাইনালিস্ট পাকিস্তান। ভারত-পাকিস্তান দুই চিরপ্রতিদ্বন্দী ওঠে ফাইনালে। দুই দলের মধ্যে তখন তিক্ততা ছিল না, ছিল নিখাদ দ্বৈরথ। জম্পেশ এক লড়াই হল ফাইনালের মঞ্চে। প্রথমে ব্যাট করে ভারত স্কোরবোর্ডে তোলে ১৫২ রান। হারায় সব ক’টি উইকেট।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই সেবার দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিল পাকিস্তান। ১৫২ রানের লক্ষ্যমাত্রায় তারা জয়ের খুব কাছাকাছিও পৌঁছে যায়। কিন্তু বাঁধ সাধে মিসবাহ উল হকের সেই স্কুপ শট। শেষ ওভারে শিরোপার দূরত্ব ছিল ১২ রানের। জোগিন্দার শর্মার দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে সমীকরণকে সহজ করে ফেলেছিলেন মিসবাহ।
কিন্তু দীর্ঘক্ষণ একটা প্রান্ত আগলে রাখার ক্লান্তিতে তাড়াহুড়ো করে তিনি খেলেন সেই স্কুপ শট। থার্ডম্যান ফিল্ডার ছিলেন ত্রিশ গজ বৃত্তের ভেতর। চার হাঁকিয়ে জয়ের সমীকরণ সহজ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু উল্টো দলের শেষ ব্যাটার হিসেবে উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি, সাথে শিরোপাও। ব্যাস, সেখান থেকে ক্রিকেট মানচিত্রে জুড়ে যায় টি-টোয়েন্টির উন্মাদনা।
ভারতের সেই বিশ্বকাপ জয়ের পরই ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের উত্থান শুরু। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে আজ বিশ্বের আনাচে-কানাচে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফ্রাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। যা ধীরে ধীরে ক্রিকেটের প্রাচীন ধারার দেয়ালে আঘাত হেনে পালটে দিচ্ছে গতিপথ।












