রাইজিং স্টার্সে বাংলাদেশের প্রাপ্ত ত্রিরত্ন

এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য যেন আশির্বাদ। প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থদের তালিকা পেরিয়ে কয়েকজন অবশ্য জ্বেলেছেন সম্ভাবনার উজ্জ্বল আলো। 

দু’বার সুপার ওভারের রোমাঞ্চ ছড়িয়েও বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ছোঁয়া হল না শিরোপা। সেমিফাইনালে নিজেদের স্নায়ুচাপকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও, ফাইনালে আর সম্ভব হয়নি তা। তবে এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য যেন আশির্বাদ। প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থদের তালিকা পেরিয়ে কয়েকজন অবশ্য জ্বেলেছেন সম্ভাবনার উজ্জ্বল আলো।

তাদের মধ্যে সবার উপরে রয়েছেন হাবিবুর রহমান সোহান। পেশিশক্তির দারুণ ব্যবহারে তিনি বনে গেছেন টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। প্রায় ১৮২ স্ট্রাইকরেটে তিনি রান তুলেছেন দুর্বার গতিতে। নামের পাশে আছে বাংলাদেশিদের মধ্যে দ্রুততম সময়ে টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি হাঁকানোর রেকর্ড।

পাঁচ ম্যাচে ২২৮ রান করা সোহানকে চাইলেই রাখা যেতে পারে জাতীয় দলের ভাবনায়। তবে তার আগে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও সোহানের কাছ থেকে আগ্রাসনের ধারা দেখতে চায় সকলেই। কিন্তু প্রয়োজনে তাকে ব্যবহার করা যাবে অনায়াসে, সে প্রমাণ তিনি দিয়েছেন এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সে। বাংলাদেশি বাকি পাওয়ার হিটারদের মত সোহান অন্তত অতিরিক্ত লেগ সাইড নির্ভর নয়।

তবে বাংলাদেশ চাইলে নির্দ্বিধায় নির্ভর করতে পারে রিপন মন্ডলের উপর। ২২ বছরের তরুণ এই পেসার বল হাতে দেখিয়েছেন দূর্দান্ত মুন্সিয়ানা। ১১ খানা উইকেট বাগিয়েছেন তিনি। এছাড়া একের পর এক পিন পয়েন্ট ইয়োর্কার ছোড়ার অসাধারণ দক্ষতায় নজড় কেড়েছেন রিপন মণ্ডল। তার কল্যাণেই তো বাংলাদেশ দল এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সের ফাইনালে উঠতে সক্ষম হয়েছিল।

সুপার ওভারে তিনি ভারতকে রানের খাতা খুলতেই দেননি, টানা দুই বলে তুলে নেন দুইটি উইকেট। এই উইকেট শিকারি মনোভাব রয়েছে রাকিবুল হাসানের মধ্যেও। টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বনে গেছেন বা-হাতি এই স্পিনার। আটটি উইকেট রয়েছে তার ঝুলিতে। বাংলাদেশের স্পিন বোলিং ডিপার্টমেন্টে সংযুক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত রাকিবুল। এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সে সে বার্তাই দিয়ে রাখলেন রাকিবুল।

এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশের ছায়া দলের হয়ে দারুণ পারফরমেন্স করা এই তিন সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়কে জাতীয় দলের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় কি-না। ফর্মের থাকাকালীনই তাদেরকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ। নতুবা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের মত করে আগুনের জ্বালানি ফুরিয়ে যেতে পারে সময়ের স্রোতে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link