আইপিলের রিটেনশন তালিকা প্রকাশের পর ক্রিকেট দুনিয়ায় যেন ঝড় বয়ে গেছে। শেষ তারিখের আগে নানা অদলবদল, অপ্রত্যাশিত ট্রেড—সব মিলিয়ে এবার দলবদলের বাজার ছিল উত্তাপ ছড়ানো। তবে সব আলোচনা ছাপিয়ে গেছে কিছু চমকপ্রদ রিলিজ। বড় কিছু নামকে নিলামে ছেড়ে দিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো চোখ কপালে তুলেছে সমর্থকদের। তালিকায় রবি বিষ্ণয় থেকে শুরু করে আন্দ্রে রাসেলের নামগুলো বিষ্ময় প্রকাশ করার জন্য যথেষ্ট।
সবচেয়ে বড় শিরোনাম অবশ্যই আন্দ্রে রাসেল। টানা ১২ মৌসুম কেকেআরের প্রাণভোমরা, ফ্র্যাঞ্চাইজির দুই আইপিএল শিরোপার নায়ক, রান ও উইকেট তালিকায় দ্বিতীয়—এমন এক কিংবদন্তিকে নিলামে দেখা যাবে। ২০২৪-এর পর এবারই প্রথমবার উঠবেন নিলামে। ১১৫ ইনিংসে ২৬৫৮ রান, স্ট্রাইক রেট ১৭৫—সংখ্যাগুলোই বলে দেয় রাসেল কী ছিলেন কেকেআরের কাছে। সঙ্গে ১১৯ ইনিংসে ১২৪ উইকেট, একাই ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতা ছিল তাঁর। গত মেগা অকশনে ১২ কোটি টাকায় যাকে ধরে রাখা হয়েছিল, সেই রাসেলকে বিদায়ের পথ দেখানো হবে—সেটা নিশ্চয়ই কেউ ভাবেনি।

লখনৌ সুপার জায়ান্টসের হয়ে টানা চার মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা রবি বিষ্ণয়কে ছেড়ে দেওয়া নি:সন্দেহে সবচেয়ে বিস্ময়কর সিদ্ধান্তগুলোর একটি। অভিষেকের পর থেকেই লখনৌয়ের বোলিং আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন এই লেগ স্পিনার। গত মৌসুমের মেগা অকশনে ১১ কোটি টাকায় তাঁকে ধরে রাখাও হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সাল ভাল যায়নি। ১১ ম্যাচে ৯ উইকেট, ইকোনমি ১০.৮৩। নতুন প্রতিভা দিগ্বেশ রাঠির উত্থান বিষ্ণয়ের ভবিষ্যৎ পথ আটকে দেয়। ৫৪ ম্যাচে ৪৮ উইকেট নিয়ে তিনি বিদায় নিলেন দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হিসেবেই।
চেন্নাই সুপার কিংসের শিবিরেও এসেছে বড় ধাক্কা। নিউজিল্যান্ডের রাচিন রবীন্দ্রকে ছেটে ফেলেছে তাঁরা। ২০২৪ সালে ১৬০ স্ট্রাইক রেটে ২২২ রান করেছিলেন রাচিন। কিন্তু ২০২৫ সালে ৮ ইনিংসে ১৯১ রান, স্ট্রাইক রেট নেমে আসে ১২৮–এ। সিএসকের কৌশলগত বিবেচনায় জায়গা হারালেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। মাথিশা পাথিরানাকে ছেড়ে দিয়েও চমক দেখিয়েছে চেন্নাই।

মহেন্দ্র সিং ধোনির বিশেষ আস্থাভাজন, ‘ডেথ বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ’ বলে যাকে দেখত সিএসকে, সেই শ্রীলঙ্কান তারকার নাম এবার নিলামে উঠবে। ২০২৫–এর আগে ধারাবাহিকভাবে দুই মৌসুমে ১৯ ও ১৩ উইকেট এনে দলকে ভরসা দিয়েছিলেন পাথিরানা। কিন্তু ২০২৫–এ ১০.১৩ ইকোনমিতে ১৩ উইকেটের মৌসুম তাঁর অবস্থান নড়বড়ে করে দেয়। ৩২ ম্যাচে ৪৭ উইকেট নিয়ে সিএসকে অধ্যায় শেষ হল তরুণ এই পেসারের।
পাঞ্জাব কিংসও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রথম আইপিএল মৌসুমেই দলকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখা জশ ইংলিস হঠাৎ রিলিজ হওয়ায় হতবাক সমর্থকরা। ১১ ইনিংসে ২৭৮ রান, স্ট্রাইক রেট ১৬২—বিশেষ করে মুম্বাই ও ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে প্লে–অফে তাঁর ইনিংস ছিল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া। ৭৩ রানে দুর্দান্ত নক খেলে দলকে শীর্ষ দুইয়ে তুলেছিলেন এই অজি উইকেটরক্ষক–ব্যাটার। তবু তাঁকে ধরে রাখল না পাঞ্জাব।

২০২৬ সালের আইপিএল নিলাম তাই আরও রোমাঞ্চকর হতে চলেছে। টি-টোয়েন্টির তারকারা নতুন ঠিকানার সন্ধানে অপেক্ষার প্রহর গুণবেন নিশ্চয়ই।










