বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ডাগআউটে হ্যাভিয়ের কাবরেরা অধ্যায়ের ইতি টানতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) — নেপালের বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর এমনটাই জোরালো হয়েছে দেশের ফুটবল অঙ্গনের অন্দরমহলে। বৃহস্পতিবার রাতে ২-২ গোলের ম্যাচটি যেন শেষ পেরেক টেনে দিয়েছে কাবরেরার ভবিষ্যতে। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে মুখস্থ কৌশল, বাছবিচারহীন একাদশ নির্বাচন ও বারবার সিদ্ধান্তগত ভুলে সমালোচিত এই স্প্যানিশ কোচকে এবার দায়িত্বমুক্ত করার দিকেই ঝুঁকছে তাবিথ আউয়াল প্রশাসন—এমনটাই জানাচ্ছে বাফুফের নীতিনির্ধারণী মহল।
নেপালের বিপক্ষে পাঁচ বছর ও সাত ম্যাচ ধরে জয়হীন থাকার হতাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে শেষ মুহূর্তে গোল হজমের পুরনো রোগ। অথচ ঠিক একই রাতে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ভারত রুদ্ধদ্বার ম্যাচে ভুটানকে উড়িয়ে দিয়েছে ৬–১ গোলে। মর্যাদার লড়াইয়ের আগে এমন বৈপরীত্যই তৈরি করেছে তীব্র চাপ—দলের খারাপ পারফরম্যান্সের দায় স্বাভাবিকভাবেই চাপছে কোচের কাঁধে।
তাবিথ প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে যে বিশাল বিনিয়োগ করা হয়েছে—হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, ফাহমিদুল ইসলাম, জায়ান আহমেদ, কিউবা মিচেল—তা মাঠে ফল দিচ্ছে না কাবরেরার পরিকল্পনার অভাবে। শৃঙ্খলাহীন একাদশ নির্বাচন, খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক পজিশনে না খেলানো, বারবার গোলরক্ষক পরিবর্তন, অভিজ্ঞদের ভুল ব্যবহারের মতো সিদ্ধান্তেই ক্রমশ ক্ষয় হচ্ছে দলের আত্মবিশ্বাস।

নেপালের বিপক্ষে ম্যাচেও কাবরেরা দেখিয়েছেন একই অসঙ্গতি। মাঝমাঠে ফর্মহীন খেলোয়াড়দের জায়গা দেওয়া, কাজেম শাহকে বসিয়ে রাখা, অভিজ্ঞ জামাল ভূঁইয়াকে পুরো ম্যাচ না খেলানো—সব মিলিয়ে দল পড়ে গেছে বিশৃঙ্খলায়। আর শেষ মুহূর্তের গোল হজম করে আবারো ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা ম্যাচের পর থেকেই তুলেছেন ‘কাবরেরা আউট’ স্লোগান।
গোলকিপিং পজিশনেও কাবরেরার একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষা দলকে ফেলেছে অনিশ্চয়তায়। আত্মবিশ্বাসহীন মিতুল মারমারের ভুলে নেপালের দুটি গোলই এসেছে। অথচ ক্লিনশিট দেওয়া সুজন কিংবা বসুন্ধরা কিংসের হয়ে বড় ম্যাচ খেলে আসা শ্রাবণ ছিলেন বিকল্প হিসেবে।
অন্যদিকে হামজা–শামিতদের মতো প্রবাসী তারকারা প্রতি ম্যাচে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছেন, জাগাচ্ছেন সমর্থকদের নতুন আশা। কিন্তু, কোচের ভুল কৌশলে সেই উজ্জ্বলতাও যথাযথ মূল্য পাচ্ছে না। ফলে বাফুফের ভেতরে থেকেই এখন জোরালো হচ্ছে দাবি—পরিস্থিতি আরও অবনতির আগে ম্যানেজেরিয়াল পজিশনে পরিবর্তন আনতেই হবে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলে কাবরেরা অধ্যায় শেষের পথে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই বা পরে—সময়ই বলে দেবে সিদ্ধান্ত কবে কার্যকর হবে। তবে একটা ব্যাপার পরিষ্কার—আরও বড় ক্ষতি হওয়ার আগেই কাবরেরাকে বিদায় জানাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।










