টেইলরের কাছে সব সম্ভব!

বয়স ৪০, তবে ব্রেন্ডন টেইলর ওসব মানেন না। মানলে কি পাখির মতো উড়ে গিয়ে ক্যাচটা তালুবন্দি করতে পারেন? প্রথম স্লিপের ফাঁক দিয়ে যে বলটা সীমানার বাইরে হতে পারতো, সেটাই অসামান্য দক্ষতায় দস্তানাবন্দী করলেন।

বয়স ৪০, তবে ব্রেন্ডন টেইলর ওসব মানেন না। মানলে কি পাখির মতো উড়ে গিয়ে ক্যাচটা তালুবন্দি করতে পারেন? প্রথম স্লিপের ফাঁক দিয়ে যে বলটা সীমানার বাইরে চলে যেতে পারতো, সেটাই অসামান্য দক্ষতায় দস্তানাবন্দী করলেন। যেকোনো উইকেটকিপারের জন্যই কঠিন কাজ, তবে বুড়ো ঘোড়া টেইলর অবলীলায় সেই কাজটাকেই সহজ করে নিলেন।

আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ব্যাট থেকে বেরিয়ে আসা বলটা ছুটছিল প্রথম স্লিপের ফাঁকা জায়গা দিয়ে। অফ স্টাম্পের বাইরের দিকে গুড লেংথের বল, স্কয়ার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে ব্যাটের বাইরের কানায় লাগালেন আফগান ব্যাটার। বলের গতি ছিল যথেষ্ট, দিকটাও এমন যে উইকেটকিপারের পক্ষে নাগাল পাওয়া কঠিন। সাধারণ চোখে দেখলে, নিশ্চিতভাবেই চার রানের সম্ভাবনা। কিন্তু উইকেটের পেছনে তখন দাঁড়িয়ে এমন একজন, যাঁর অভিধানে অসম্ভব বলে কিছু যেন নেই!

ডান দিকে শরীর ছুড়ে দিলেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে শূন্যে ভেসে গিয়ে এক হাত বাড়িয়ে দিলেন বলের দিকে। আঙুলের ডগায় বলের স্পর্শ, তারপর গ্লাভসে আটকে রাখার মরিয়া চেষ্টা। মনে হচ্ছিল, যেকোনো মুহূর্তে ফসকে বেরিয়ে যাবে বলটা। কিন্তু অভিজ্ঞ হাতের জাদুতে শেষ পর্যন্ত বলটাকে মাটিতে পড়তে দিলেন না টেইলর।

বয়স চল্লিশ ছুঁয়েছে, কিন্তু টেইলরের শরীরী ভাষায় তার ছাপ কোথায়? উইকেটের পেছনে তাঁর সেই ক্ষিপ্রতা যেন বলে দিল, ক্রিকেটের প্রতি নিবেদন থাকলে বয়স কেবলই একটা সংখ্যা। সময়ের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বাড়ে, স্মৃতির খাতায় জমে অসংখ্য ম্যাচের গল্প। কিন্তু কিছু মুহূর্ত আসে, যখন পুরোনো সেই ক্ষুধা আবার জেগে ওঠে, নতুন করে মনে করিয়ে দেয় নিজের সামর্থ্য।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link