রাওয়ালপিন্ডিতে ব্যাট দিয়েই জবাব দিলেন সালমান আগা!

মাঠ ছাড়ার সময় তাঁর মুখে উচ্ছ্বাস ছিল না, ছিল একধরনের শান্ত তৃপ্তি। যেন বলছিলেন, এই ইনিংসটা আমার পাওনা ছিল। যাঁকে দল থেকে ছুড়ে ফেলা হয়েছিল, তাঁকে ছাড়া দলের চলছে না, ক্রিকেট মাঝে মাঝে এভাবেই উত্তর দেয়।

ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে অধিনায়ক ছিলেন সালমান আলি আঘা। তারপর হঠাৎ দল থেকে বাদ পড়লেন, প্লেনে করে ফেরত পাঠানো হলো দেশে। অপমানটা ছোট ছিল না। কিন্তু ফিরে এসে তিনি কারও সঙ্গে ঝগড়া করলেন না, মুখেও কিছু প্রমাণ করার কথা শোনালেন না। কথা বলল তার ব্যাট, ঘরোয়া লীগে করলেন ত্রিপল সেঞ্চুরি, তারপর আরও একটা সেঞ্চুরি। টি-টুয়েন্টি সিরিজের দলেও তাঁকে রাখা হয়নি, তবু ওয়ানডে দলে ডাকতেই হলো, নির্বাচকদের হাতে তখন আর কোনো উপায় ছিল না।

রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নামল পাকিস্তান। শুরুটা মোটেই ভালো হলো না। সাইম আয়ুব ফিরলেন ৭ রানে, ফখর জামান ১৬ রানে, দুজনকেই তুলে নিলেন দিলশান মাদুশঙ্কা। বাবর আজম ভালো খেলছিলেন, থিতুও হয়েছিলেন, কিন্তু ৪৫ রানে পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে ধরা পড়লেন। ১০৬ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ার পর ক্রিজে এলেন সালমান। প্রথম দুই বলে রান নেই, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন পুরোপুরি শ্রীলঙ্কার হাতে।

সালমান তাড়াহুড়ো করলেন না। একটু একটু করে রান জমালেন, বাজে বল পেলে সুযোগ নিলেন, ভালো বলকে সম্মান দিলেন। ২৪তম ওভারে কামিন্দু মেন্ডিসকে পরপর দুটি চার মেরে প্রথম বড় ধাক্কাটা দিলেন। হাসান নাওয়াজের সঙ্গে গড়লেন প্রায় একশো রানের জুটি, শেষ পর্যন্ত তিন রানের জন্য শতরান পূর্ণ হয়নি। ৩৫তম ওভারে ওভারথ্রোয়ের বাড়তি এক রানে পূর্ণ হলো তাঁর পঞ্চাশ। এরপর হেলমেট খুলে একটু পানি খেলেন, দম নিলেন, আর তারপর থেকে খেলাটা বদলে গেল।

৪২তম ওভারে বড় একটা এলবিডব্লিউর আবেদন হয়েছিল। শ্রীলঙ্কা রিভিউও নিল, কিন্তু বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা গেল বল শুধু লেগ স্টাম্প ছুঁয়ে যাচ্ছে, আম্পায়ার্স কলে সিদ্ধান্ত বদলাল না। ওই এক ইঞ্চির ভাগ্য তাঁর পক্ষেই গেল। এরপর ৪৪তম ওভারে আসিথা ফার্নান্দোকে পেয়ে বসলেন। প্রথম বলে লো ফুলটসে চার মেরে পৌঁছালেন ৯৬ রানে, পরের বলে ব্যাটের কানায় লেগে থার্ড ম্যান দিয়ে আরেকটা বাউন্ডারি, দুর্দান্ত সেঞ্চুরি পূর্ণ হলো। বাউন্ডারি দিয়েই শতরান ছুঁলেন, ৮২ বলে, যা ওয়ানডেতে তাঁর সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি। হেলমেট খুলে হাত তুললেন, পুরো ড্রেসিংরুম দাঁড়িয়ে হাততালি দিল। টেস্ট দল থেকে বাদ, টি-টুয়েন্টি দল থেকে বাদ, সেই মানুষটাই ওয়ানডেতে এসে এমন ইনিংস খেললেন।

৪৬.৫ ওভারে ফার্নান্দোর বলে বড় শট খেলতে গিয়ে লং অনে দাসুন শানাকার হাতে ধরা পড়লেন। ৯০ বলে ১০৭ রান, ১০টি চার আর একটি ছক্কা। ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে ২৯১ রান উঠে গেছে। যে দল একসময় ১০০ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে বসেছিল, শেষ পর্যন্ত তারা পৌঁছাল ৩০৫ রানে। এই রানের সিংহভাগ কৃতিত্ব একজনেরই, ধসের মুখে ইনিংসের ভিত গড়া থেকে শেষ দিকে গতি তোলা পর্যন্ত পুরো কাজটা তিনি একাই সামলেছেন।

মাঠ ছাড়ার সময় তাঁর মুখে উচ্ছ্বাস ছিল না, ছিল একধরনের শান্ত তৃপ্তি। যেন বলছিলেন, এই ইনিংসটা আমার পাওনা ছিল। যাঁকে দল থেকে ছুড়ে ফেলা হয়েছিল, তাঁকে ছাড়া দলের চলছে না, ক্রিকেট মাঝে মাঝে এভাবেই উত্তর দেয়।

 

Share via
Copy link