জার্সি নয় যেন চোখের বালি

একটা জার্সি ক্রিকেটারের সঙ্গে সমর্থকের দূরত্ব ঘোচানোর প্রতীক। কিন্তু সব জার্সিই কি সেই যোগসূত্র তৈরি করে? কখনও কখনও এমন ডিজাইন বা রঙ থাকে, যা দেখলেই বিরক্তি চলে আসে। এমন পাঁচটি দল রয়েছে, যাদের জার্সি দেখে সমর্থকরাও বিব্রত হন।

একটা জার্সি ক্রিকেটারের সঙ্গে সমর্থকের দূরত্ব ঘোচানোর প্রতীক। কিন্তু সব জার্সিই কি সেই যোগসূত্র তৈরি করে? কখনও কখনও এমন ডিজাইন বা রঙ থাকে, যা দেখলেই বিরক্তি চলে আসে। এমন পাঁচটি দল রয়েছে, যাদের জার্সি দেখে সমর্থকরাও বিব্রত হন।

তালিকার প্রথম নামটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৭৯-৮০ সালের ওয়ার্ল্ড সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চেয়েছিল ভিন্ন কিছু করতে। তাই তারা বেছে নেয় ‘কোরাল পিঙ্ক’ রঙের জার্সি। উদ্দেশ্য ছিল ক্যারিবিয়ান দ্বীপের সামুদ্রিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা। কিন্তু রঙটা এমন ছিল যে, ভক্তরা হতবাক!

বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার টনি কোজিয়ার পর্যন্ত মন্তব্য করেন—এই রঙ ক্যারিবিয়ান সংস্কৃতিতে কিছুটা সমকামী অর্থ বহন করে! কল্পনা করুন—ম্যালকম মার্শাল বা অ্যান্ডি রবার্টস দৌড়ে আসছেন মিষ্টি গোলাপি জার্সি পরে! মাঠে ভয় নয়, বরং হাসির রোল উঠেছিল গ্যালারিতে।

দ্বিতীয় নম্বরে থাকবে — চেন্নাই সুপারস্টারস। ভারতের বিদ্রোহী ক্রিকেট লিগ আইসিএল-এ চেন্নাই সুপারস্টারসের জার্সি ছিল চোখের জন্য এক ধাক্কা। গোলাপি, সবুজ, ধূসর আর তার সঙ্গে ম্যারুন ক্যাপ—সব মিলিয়ে যেন রঙের রংধনু! এমন জার্সি পরে খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল বেভানও।

তিন নম্বরে — জার্মান ক্রিকেট দল। ফুটবলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দেশ—তাই জার্সি ডিজাইনের ব্যাপারেও প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু ক্রিকেটে জার্মানির লাল-হলুদের ঝকঝকে রঙের জার্সি চোখে লাগে তীক্ষ্ণ কাঁটার মতো।

এরপরের জায়গাটা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর সবুজ জার্সি। প্রতি মৌসুমেই কোহলির দল মাঠে নামে লাল জার্সি পরে। তবে বছরে একদিন তারা পরে উজ্জ্বল সবুজ জার্সি—‘গো গ্রীন’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে। পরিবেশ বান্ধব এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, কিন্তু সবুজ ঘাসে মিলেমিশে যায় সেই জার্সি। ফলে অনেক সময় ফিল্ডার চেনাই যায় না।

সর্বশেষ নামটা — জ্যামাইকা তালাওয়াস। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) চ্যাম্পিয়ন দলটার জার্সি কিছুটা চোখের বালি। হলুদ ট্র্যাক প্যান্টের সঙ্গে কালো আর সবুজের ভারী মিশ্রণ—যা একেবারেই মানানসই না ওয়েস্ট ইন্ডিজের গরম আবহাওয়ায়। একটা সময় এই দলে ছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা, ক্রিস গেইলের মতো তারকারা, তবু জার্সিতে ছিল না একটুও নান্দনিকতার ছোঁয়া।

ক্রিকেটের জার্সি মানে শুধু একটা পোশাক নয়, এটা গর্ব, এটা পরিচয়। সেই পরিচয়ে যদি ফ্যাশনের বেমানান ছাপ পড়ে, তাহলে সমর্থকদের ভালোবাসায় চিড় ধরতে সময় লাগে না। তাই দলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি জার্সির ডিজাইন ও রঙেও চাই আধুনিক চিন্তা।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link