ঘরের ছেলে রবিচন্দন অশ্বিন, বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে কাউন্টার অ্যাটাকের শুরুটা করেছিলেন তিনি, দিনটা শেষ করেছেন আবার সেঞ্চুরি করেই। স্বাভাবিকভাবেই সব লাইমলাইট এখন তাঁকে ঘিরে, তবে প্রদীপের একটু বাইরে আছেন আরেক নায়ক রবীন্দ্র জাদেজা – যিনি সবসময়ের মতই ছায়ায় থেকে নিজের কাজটা করে গিয়েছেন দারুণভাবে।
ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং; এই বাঁ-হাতির পারদর্শিতা নেই কোন বিভাগে। অথচ এমন একজনকে নিয়ে আলোচনা হয় না ঠিকঠাক, বরং পারফরম্যান্স একটু মনমতো না হলেই শুরু হয় সমালোচনা – সাম্প্রতিক সময়েও নিন্দুকরা ফোঁড়ন কাটতে শুরু করেছিলেন। তবে জবাবটা দিয়েই দিলেন তিনি।
দিনের দ্বিতীয় সেশনে যখন উইকেটে এসেছেন এই অলরাউন্ডার তখন দলের রান পাঁচ উইকেটে ১৪৪ রান। চার বল পরেই আরো এক উইকেটের পতন, ২০০ রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তখন ঘনীভূত হয় টিম ইন্ডিয়ার ভাগ্যাকাশে। ঠিক সেই মুহূর্তে অশ্বিনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি।
সতীর্থের মত এতটা আগ্রাসী না হলেও জাদেজা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতেই খেলেছেন। টাইগার বোলারদের থিতু হওয়ার কোন সুযোগই দেননি তিনি – দিনের সেরা বোলার হাসান মাহমুদকে পুল শটে ছক্কা হাঁকানোটাই তাঁর সাহসের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হয়ে রইলো। সাকিব আল হাসানের বিপক্ষে ব্যাক টু বাউন্ডারি কিংবা মিরাজকে তুলোধুনো করাটা বাদই থাকুক।
সবমিলিয়ে সপ্তম উইকেটে দুই অলরাউন্ডারের জুটিতে স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছে ১৯৫ রান; সেখানে অশ্বিনের যতটুকু অবদান ঠিক ততটাই অবদান আছে জাদেজারও। কি জানি, দু’জনে একইসাথে ত্রাতা হয়ে না উঠলে ভারত হয়তো ম্যাচ থেকে বহুদূরে চলে যেত।
যদিও রবীন্দ্র জাদেজার কাজটা শেষ হয়ে যায়নি, ব্যাট হাতে ইনিংস আরো বড় করতে হবে বটে। এরপর আবার বল হাতে টাইগার ব্যাটারদের ধসিয়ে দেয়ার পরিকল্পনাও তাঁর আছে। অশ্বিনের মত না হন, আইপিএলের সুবাদে তিনিও তো চেন্নাইয়ের সন্তান। তাই তো চেন্নাই টেস্টকে স্মরণীয় করে রাখতে সবটুকু করবেন নিশ্চয়ই।