অস্ট্রেলিয়া, এক সময় যাদের ফুটবল ছিল শুধুই ওশেনিয়া মহাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ, আজ তাঁরা ফুটবল বিশ্বে মোটামুটি পরিচিত দল। কিন্তু এই গল্পটা সহজ ছিল না। ওশেনিয়া মহাদেশের ফুটবল ছিল একচেটিয়া তাঁদের নিয়ন্ত্রণে, তবে ফুটবল বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা পাওয়ার লড়াই ছিল অস্ট্রেলিয়ার জন্য চ্যালেঞ্জের।
অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল ইতিহাস ছিল অসীম সংগ্রামের, যেখানে একেকটি বাছাই পর্বে দাপট দেখিয়েও, বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ মিলত না। তার কারণ ছিল ওশেনিয়া মহাদেশের জন্য নির্ধারিত বিশ্বকাপ স্পট—মাত্র ০.৫! অর্থাৎ, কোনো দল নিজেদের মহাদেশের বাছাই পর্বে অসাধারণ পারফর্ম করলেও, তাদের জন্য সরাসরি বিশ্বকাপে সুযোগ ছিল না।
২০০৬ সালে অবশেষে অস্ট্রেলিয়া সিদ্ধান্ত নেয়, আর অপেক্ষা করা যাবে না। নিজের ফুটবল মহাকাব্য লেখার জন্য তারা ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশন (ওএফসি) থেকে বেরিয়ে এসে, যোগ দেয় এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)-তে। এর পর থেকেই ফুটবলের পরিসরে ইতিহাস বদলে যেতে শুরু করে।

১৯৬৬ সালে ফিফার পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার পথচলা শুরু হলেও, ২০০৬ সাল পর্যন্ত তারা বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছিল মাত্র দুইবার। যদিও বাছাই পর্বে তারা ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। তবে একাধিকবার প্লে অফ পর্বের কারণে বিশ্বকাপের মূল পর্বে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
তবে ২০০৬ সালের পর, এএফসি-তে যোগদানের পর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের মূল পর্বে প্রতিটি আসরেই অংশগ্রহণ করেছে। ২০২২ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তাদের অসাধারণ পারফরম্যান্স, এবং ২০১৫ সালে এএফসি এশিয়ান কাপের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে তাদের ফুটবল শক্তির বিস্তার ঘটেছে।
অস্ট্রেলিয়া ফুটবলের জন্য এই পরিবর্তন শুধু দেশটির জন্য নয়, গোটা ফুটবল দুনিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওশেনিয়া মহাদেশের পাপুয়া নিউগিনি, ফিজি, সলমন আইল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের মত দলগুলোর থেকে বহু দূরে এগিয়ে থেকে, অস্ট্রেলিয়া আজ ফুটবল বিশ্বে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার এই প্রত্যাবর্তন শুধু তাদের ফুটবল শক্তির গল্প নয়, এটি তাদের সাহস, সংগ্রাম, এবং জয়ের এক অবিস্মরণীয় কাহিনী, যা গোটা বিশ্বকেই দেখিয়ে দিয়েছে, কখনো কখনো সীমা পেরিয়ে যাওয়াই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পথ।










