সততার সেরা ব্র্যান্ডিং

২১ জুন, ২০১৭। সঙ্গের এই পদত্যাগপত্রটি লিখে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন ক্যাপ্টেনের ‘রিজার্ভেসন’-এ থাকা ‘হেড কোচ’ ২১/০৬/২০১৭ তারিখে।তার অনেক আগেই ঠিক ছিল যে অনিল কুম্বলে-কে প্রধান কোচ থেকে সরাতেই হবে। বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) বদ্ধপরিকর ছিল। এমনকি ক্যাপ্টেনও। রীতিমত বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়ে গিয়েছিল ‘হেড কোচ’ পদের জন্য। শোনা যাচ্ছিল যে দেশপ্রেম অগ্রাধিকার পাবে। কারণ বাজারী মিডিয়া বলছিল, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ‘দেশপ্রেমী’।

২১ জুন, ২০১৭।

সঙ্গের এই পদত্যাগপত্রটি লিখে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন ক্যাপ্টেনের ‘রিজার্ভেসন’-এ থাকা ‘হেড কোচ’ ২১/০৬/২০১৭ তারিখে।তার অনেক আগেই ঠিক ছিল যে অনিল কুম্বলে-কে প্রধান কোচ থেকে সরাতেই হবে। বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) বদ্ধপরিকর ছিল। এমনকি ক্যাপ্টেনও। রীতিমত বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়ে গিয়েছিল ‘হেড কোচ’ পদের জন্য। শোনা যাচ্ছিল যে দেশপ্রেম অগ্রাধিকার পাবে। কারণ বাজারী মিডিয়া বলছিল, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ‘দেশপ্রেমী’।

১২ মে, ২০০২।

এই পরিপ্রেক্ষিতে আসুন একটু পিছিয়ে ঘুরে আসি। সেন্ট জনস, অ্যান্টিগাতে, ১২ মে ২০০২ তারিখে। ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টে। ক্রিকেটের সর্বকালের সেরাতম লড়াকু দৃশ্যটা দেখতে। চোয়ালচাপা নয়, চোয়ালভাঙা লড়াই। প্যাভিলিয়ন থেকে ঐ তো তিনি বেরোচ্ছেন। ফিল্ড ও বল করতে। মুখ, মাথা, মাথার পিছনে ব্যান্ডেজ।

চোয়ালটা ভাঙে কিছু আগে ভারতীয় ইনিংসে মার্ভ ডিলনের বলে। রক্তস্রোত টপকে আরো ২০ মিনিট ব্যাট করা। তারপর ৫১৩/৯-এ ইনিংস ডিক্লেয়ার। ব্যান্ডেজ। তারপর আবার ফিল্ড ও বল করতে আসা। ওটা ছিল চতুর্থ টেস্ট এবং স্কোর ছিল ১-১।

তারপর? ঐ অবস্থায় ১৪ ওভার বল করা। এবং লারাকে আউট করা। পরদিন উড়ে যাওয়া ব্যাঙ্গালোরে (তখনো ব্যাঙ্গালুরু হয়নি) সার্জারির জন্য।তার আগে তার সেই বক্তব্য – ‘At least I can now go home with the thought that I tried my best. I didn’t want to sit around.’

আর কেউ না, স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডসের বক্তব্য ছিল এইরকম, ঐ ঘটনাটা নিয়ে – ‘It was one of the bravest things I’ve seen on the field of play,’ ৬২৯/৯ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ড্র হয় এই টেস্ট।

এর আগে ১৯৬৩তে কলিন কাউড্রে ভাঙা হাতে ব্যাট করতে এসেছেন, ব্যাট করেননি অবশ্য। করতে হয়নি। রিক ম্যাককসকার ভাঙা চোয়াল নিয়ে ব্যাট করেছেন কিছুক্ষণ, শতাব্দী টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে জেতাতে। যেগুলি ভাঙা চোয়াল নিয়ে ১৪ ওভার বলের ধারে কাছেও আসেনা।

১৯৯০ থেকে ২০০৮ – ১৩২ টেস্টে ৬১৯ আর ২৭১ একদিনে ৩৩৭ – মোট ৯৫৬টি উইকেট ছিল তাঁর ঝুলিতে। ব্যাটে ছিল ১৩২ টেস্টে ১ শতরান সহ ২৫০৬ রান আর ২৭১ একদিনে ৯৩৮ রান। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দিল্লীতে এক ইনিংসে ১০ টি উইকেটও তিনিই নিয়েছিলেন ১৯৯৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে। এর একটিও না পেলেও ইতিহাসে বড় একটা জায়গা তার নামে লেখা থাকত এই ‘নিজের আগে দেশ’কে রাখা ঘটনাটার জন্য। অনিল কুম্বলে-র একটাই ব্র্যান্ডিং ছিল – ‘I tried my best.’

তার চেয়েও বড় ‘দেশপ্রেমী’র পরশপাথর খুঁজে ফেরা বিসিসিআই কিন্তু সোয়া চার বছর আগে ‘দেশপ্রেম’ খুঁজে পায়নি পদত্যাগী অনিল কুম্বলের মধ্যে। যাদের কাছে ‘অনেস্টি’ শব্দটা সেদিন ছিল দেশের ক্রিকেট পিচে ঘাসের মতই – অবাস্তব।

ইতিহাস বড় নিষ্ঠুর, তাই আজ অনিল ভাই কুম্বলেকেই আবার ভারতীয় ক্রিকেট কোচিংয়ে নতুন হাওয়া আসার ঘোষণার অঙ্গ হিসেবে, তাঁকে অফার দেওয়া হল। এবং সে অফার গ্রহণ করলেন না তিনি। এজন্য টুপি খুলে সেলাম, অনিল কুম্বলেকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...