দুই তারকার দ্বন্দ্বে অস্থির রিয়াল মাদ্রিদ ড্রেসিংরুম

স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে তারকা খেলোয়াড়দের আগমন-প্রস্থান নতুন কিছু নয় । তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে উঠে যখন একই দলের দুজন খেলোয়াড় ব্যালন ডি’অর স্বপ্নে বিভোর হয়ে ওঠেন।

রিয়াল মাদ্রিদের দুজন তারকা ফরোয়ার্ড এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়াস জুনিয়র ইতোমধ্যেই ড্রেসিংরুমে বড় নাম। তবে, তাঁদের মধ্যকার দ্বন্দ্বই এই মুহূর্তে লা লিগার আলোচনার বিষয়। ক্লাবের ভিতরের ক্ষমতার ভারসাম্য, কোচ পরিবর্তন এবং দুই তারকার মধ্যকার আধিপত্যের লড়াই পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ গনমাধ্যমগুলো ।

২০২৪ সালে এমবাপ্পে যখন রিয়াল মাদ্রিদে যোগদান করেন, শুরু থেকেই তিনি দলের সাথে মানিয়ে নেয়ার দিকে মনোযোগ দেন। তখন ভিনিসিয়াসের সাথে তাঁর সম্পর্কও ছিল ইতিবাচক।

এমনকি ভিনিসিয়াস নিজে থেকেই এমবাপ্পে কে দলে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছিলেন । তবে মৌসুম শেষে ৪৪ গোল করার পরেও দল প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় দুই ফরোয়ার্ডের একসাথে খেলার সমন্বয় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠে।

তবে পরিস্থিতির আরো সংকটময় হয়ে উঠে যখন দলটির কোচের দায়িত্ব আসে জাবি আলনসো। তিনি আক্রমন ভাগের পরিকল্পনা সাজায় এমবাপ্পে কে ঘিরে, ফলে ভিনিসিয়ুসের ভূমিকা কমতে থাকে ধীরে ধীরে।

তাতে করে এই ব্রাজিলিয়ান তারকার মাঝে অসন্তুষ্টি দেখা যায়। মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো ম্যাচে বদলি হওয়ার পরে তাঁর প্রতিক্রিয়া সেই অস্বস্তিকে আরো সামনে নিয়ে আসে।

পরবর্তীতে কোচ জাবি আলোনসোর বিদায়ের পর দলটির দায়িত্ব আলভারো আরবেলোয়া কাঁধে গেলে তিনি ভিনিসিয়ুসকে দলের মূল কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনেন। এতে পরবর্তীতে এমবাপ্পের প্রভাব কমতে থাকে এবং ড্রেসিং রুমে দুজন খেলোয়াড়ের মধ্যকার বিরক্তি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে।

শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পে প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝাড়েন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে নাকি দলের ‘চতুর্থ ফরোয়ার্ড’ হিসেবে দেখা হচ্ছে । যদিও কোচ আরবেলোয়া সেই দাবীটি অস্বীকার করেছেন।

তবে দলের মধ্যকার কোচ পরিবর্তন ও নির্দিষ্ট তারকা কেন্দ্রিক আক্রমণ নির্ভরশীলতা দলের পরিবেশ যেমন অস্থির করে তুলেছে, পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মধ্যকার পারস্পরিক বোঝাপড়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে যা খেলার মাঠে আরো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা যায়।

Share via
Copy link