যেখানে ক্রিকেটকে বিদায় বলা কঠিন

একই রকম প্রবণতা বাংলাদেশেও বিদ্যমান। মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান কিংবা তামিম ইকবালরা আদৌ মাঠ থেকে বিদায় বলতে পারেননি। মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার স্বাদটা অধরা রেখে ক্যারিয়ার শেষ করাটা অনেক ক্ষেত্রেই তাই মূল্যহীন।

ক্রিকেটারদের মাঠ কে বিদায় না বলার প্রবণতা দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবল। ভারতীয় ক্রিকেটে এই চর্চা বহুল প্রচলিত। সম্প্রতি রয়্যাল চ্যালেঞ্জর্স ব্যাঙ্গালুরুকে দেওয়া বিরাট কোহলির একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকার বিষয়টিকে আবারও ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

সাক্ষাৎকারে কোহলি বলেন, তিনি ২০২৭ বিশ্বকাপ খেলতে আগ্রহী, তবে তার একটি শর্ত আছে – কেউ যেন তার সামর্থ্য এবং গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন না তোলে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরাট কোহলির মতো তারকা ক্রিকেটার যখন এমন ভাষ্য দেন, তা থেকেই বোঝা যায় তিনি নিজেও নিশ্চিত নন বর্তমান টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এখানেই সমর্থকদের মাঝে প্রশ্ন তৈরি হয়, কেন এতো অনিশ্চয়তা, সমালোচনা ও সন্দেহের মাঝেও ক্রিকেটাররা খেলা চালিয়ে যেতে চান?

শচীন টেন্ডুলকার পরবর্তী সময়ে শুধুমাত্র ভারতীয় ক্রিকেটেই নয়, সমগ্র ক্রিকেট বিশ্বেই সবচেয়ে বড় নাম হয়ে উঠেছেন বিরাট কোহলি। ক্রিকেটে বিরাট কোহলির অর্জন যেকোনো ক্রিকেটারকেই ঈর্ষান্বিত করবে।

অসংখ্য রান, একাধিক আইসিসি শিরোপা, সফল অধিনায়কত্ব – উল্লেখযোগ্য অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয় তার হাত ধরেই এসেছে। তারপরেও অবসর প্রসঙ্গে কেন বিরাট কোহলিকে দ্বিধাগ্রস্ত মনে হয়?

এই প্রবণতায়  কোহলি একা নন – শচীন, ধোনি ও কাপিল দেব সহ অনেক কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের মাঝেও দেখা গিয়েছে। ধোনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন বহু আগে কিন্তু এখনও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলা চলমান রেখেছেন।

এর পিছনে শুধুমাত্র ক্রিকেটার নয়, ভারতীয় উপমহাদেশের সমাজব্যবস্থারও একটি বিশেষ প্রভাব রয়েছে। ক্রিকেট এই উপমহাদেশে কেবল একটি খেলাই নয়, খেলোয়াড়দের জন্য খ্যাতি ও অর্থ উপার্জনের অন্যতম একটি মাধ্যম।

ক্রিকেটাররা দীর্ঘসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসা পান। ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে অনেকই গড়ে তোলেন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, নিজেকেও জড়িয়ে নেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে। কিন্তু দুর্বল ফিটনেস ও ধারাবাহিক ব্যর্থতায় একটা সময় অগোচরেই ক্রিকেট থেকে হারিয়ে যান।

একই রকম প্রবণতা বাংলাদেশেও বিদ্যমান। মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান কিংবা তামিম ইকবালরা আদৌ মাঠ থেকে বিদায় বলতে পারেননি। মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার স্বাদটা অধরা রেখে ক্যারিয়ার শেষ করাটা অনেক ক্ষেত্রেই তাই মূল্যহীন।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link