পিচ না কি সবুজ গালিচা? সিলেটের উইকেটের সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ হয়তো এই ধাঁধার সমাধানই খুঁজছিলেন শান মাসুদ আর বাবর আজমরা। দফায় দফায় পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের পিচ দেখার দৃশ্যই বলে দিচ্ছিল মিরপুরের হারের ক্ষত কতটা গভীর। টানা তিন টেস্টে বাংলাদেশের কাছে হারের পর বৃত্ত ভাঙতে মরিয়া পাকিস্তান। এখন সিলেটের এই ঘাসমাখা পিচে নিজেদের ভয় আর অনিশ্চয়তাকেই যেন হাতড়ে বেড়াচ্ছে।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের সবুজ উইকেট যেন এখন পাকিস্তানের জন্য অদৃশ্য এক দেয়াল। প্র্যাকটিস শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার তাড়া নেই, বরং অধিনায়ক শান মাসুদের নেতৃত্বে সাতজন ক্রিকেটার উইকেটের একদম কাছে গিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলেন মাটির চরিত্র।
যেখানে ঘাস আর উইকেটকে আলাদা করা দায়, সেখানে সালমান আলি আঘাদের চিন্তিত মুখভঙ্গি বলে দিচ্ছিল মিরপুরের ১০৪ রানের পরাজয় তাঁদের পিছু ছাড়েনি। ইনজুরিতে আগের ম্যাচে একাদশের বাইরে থাকা বাবর আজমও যেন শঙ্কিত।

প্রথমে পিচ দেখা সাতজনের দলটি চলে যাওয়ার পর আবারও চারজন ক্রিকেটার এলেন পিচ দেখতে। এই যে বারবার পিচের কাছে ফিরে আসা, এটা কি কেবলই কৌশল, নাকি মনের ভেতরের কোনো চাপা আতঙ্ক? মিরপুরের পরাজয়ের পর সবুজ উইকেট তাঁদের জন্য আশীর্বাদের চেয়ে মরণফাঁদ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাই বেশি।
সিলেটের এই উইকেট পেসারদের জন্য স্বর্গ হয়ে উঠবে। আর এখানেই পাকিস্তানের মূল ভয়। মিরপুরে বিপর্যস্ত হওয়ার পর আবার নাহিদ রানা-তাসকিন আহমদদের গতি আর সুইং মোকাবিলা করা তাঁদের জন্য পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পিচ দেখে ফিরে যাওয়ার সময় ক্রিকেটারদের চোখে-মুখে আত্মবিশ্বাসের চেয়েও বেশি ছিল সতর্কতার চিহ্ন।
হারের বৃত্তে বন্দি থাকা একটা দলের জন্য যখন প্রতিপক্ষ অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে, তখন প্রতিটি ছোট সিদ্ধান্তই হয়ে দাঁড়ায় গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান দল জানে, এই টেস্টে এক চিমটি ভুল মানেই টানা চতুর্থ হারের লজ্জায় ডোবা। পিচ দেখার এই লম্বা সময়টুকু আসলে তাঁদের সেই মানসিক অস্থিরতারই বহিঃপ্রকাশ, যেখানে জয়ের চেয়েও হার এড়ানোর চিন্তা হয়তো প্রবল হয়ে দাঁড়িয়েছে।











