পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক হচ্ছেন বাবর?

যদি বাবর ব্যাটে রানের ফুলঝুরি ছোটান, তবে ২০১৯ সালের পর তৃতীয়বারের মতো জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা আসতে পারে তাঁর।

ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ১০৪ রানের সেই বিধ্বস্ত পরাজয় যেন পাকিস্তান ক্রিকেটের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে হার তো আছেই, তবে, দলে আসছে বড় পরিবর্তন। এই হারের ক্ষত মুছতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এখন হাঁটছে এক পুরনো পথেই। গুঞ্জন উঠেছে, শান মাসুদের দিন ফুরিয়ে আসছে আর আবারও সাদা পোশাকের ব্যাটন পেতে যাচ্ছেন বাবর আজম।

২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে শান মাসুদের অধিনায়কত্বের খতিয়ান একেবারেই ম্লান। ১৫ ম্যাচে ১১ হার। স্রেফ হারের সংখ্যা নয়, ব্যাট হাতেও রানের খরায় ভুগছেন তিনি। ঢাকার মাঠে ব্যর্থতার পর মাসুদের অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন এখন তুঙ্গে। অন্যদিকে, চোটের কারণে প্রথম টেস্ট মিস করা বাবর ফিরছেন ১৮ মে সিলেট টেস্টে। আর এই ফেরাটা কেবল এক ব্যাটারের ফেরা নয়, বরং হারানো রাজত্ব ফিরে পাওয়ার এক বড় পরীক্ষা।

পিসিবি অন্দরমহলের সূত্র বলছে, বাবরকে ফিরিয়ে আনার এক অলিখিত তোড়জোড় শুরু হয়েছে। পিটিআইকে এক সূত্র বলেন, ‘বাবর যদি দ্বিতীয় টেস্টে খেলে নিজের ব্যাটিং ফর্ম ফিরে পান, তবে তিনি অধিনায়ক হওয়ার শক্তিশালী দাবিদার। বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে প্রাথমিক আলোচনায় মনে হয়েছে, তিনিও দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহী নন।’

অর্থাৎ, বাবরের প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ এখন প্রায় তৈরি। পাকিস্তান ক্রিকেটে এখন নেতৃত্বের এক অদ্ভুত জটলা। দলে আছেন শাহীন আফ্রিদি ও সালমান আলী আঘার মতো সব ফরম্যাটের অভিজ্ঞ নেতারা।

এই ভিড়ের মাঝে শান মাসুদের ভবিষ্যৎ দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। গুঞ্জন আছে, মাসুদ নিজেই নাকি তাঁর দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন। হারের গ্লানি তাঁকে এতটাই বিমর্ষ করেছে যে, তিনি হয়তো ক্রিকেট ছেড়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে থিতু হতে পারেন।

ইতিমধ্যেই শান মাসুদকে ‘ডিরেক্টর অফ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যান্ড প্লেয়ার অ্যাফেয়ার্স’ পদের প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে বোর্ড। তিনি হয়তো চেয়েছিলেন চলমান ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সাইকেলটা শেষ করতে, কিন্তু বাংলাদেশের কাছে এই অপমানজনক পরাজয় সেই সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করতে পারে। মাঠের লড়াই থেকে তিনি হয়তো ডিরেক্টর রুমে পা রাখছেন খুব শীঘ্রই।

আসন্ন সিলেট টেস্ট তাই কেবল একটি ক্রিকেট ম্যাচ নয়, বরং বাবর আজমের জন্য এক চূড়ান্ত অডিশন। যদি বাবর ব্যাটে রানের ফুলঝুরি ছোটান, তবে ২০১৯ সালের পর তৃতীয়বারের মতো জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা আসতে পারে তাঁর। লক্ষ্য একটাই, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাবরকে ঘিরে একটা স্থিতিশীল দল গঠন করা।

সিলেটের সবুজ ঘাসে পাকিস্তান কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? নাকি এই পরাজয় বাবর আজমের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের নতুন এক মহাকাব্য লিখবে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। পাকিস্তানের ক্রিকেট রাজনীতি আর মাঠের লড়াই এখন এক বিন্দুতে এসে মিশেছে, যার শেষটা জানা যাবে খুব শীঘ্রই।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link