পেস বোলিংয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পক্ষে সাক্ষ্য দিলেও আরব আমিরাতের মঞ্চে জিম্বাবুয়ের পেসারদের ধার এবং আফগানিস্তানের বৈচিত্র্যকে উপেক্ষা করার অবকাশ নেই। শেষ পর্যন্ত গতির এই দ্বৈরথে কারা প্রতিপক্ষের ব্যাটিং দুর্গে সবচেয়ে বড় আঘাত হানতে পারে, সেটিই হয়ে উঠবে দেখার বিষয়।

আরব আমিরাতে ভাগ্যনির্ধারক হয়ে উঠতে পারে পেস বোলিং। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, গতির ঝড় তুলে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং দুর্গে আঘাত হানার সক্ষমতায় দলগুলোর মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান। মরুর বুকে যখন মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে, তখন তাই পেস সক্ষমতায় বাকিদের চেয়ে বেশ এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।

সাম্প্রতিক সময়ে পেস বোলিংয়ে অভাবনীয় উত্থানের সাক্ষী বাংলাদেশ। ২০২৫ ও ২০২৬ সাল মিলিয়ে দলের পেসারদের শিকার ৯৭ উইকেট। এর মধ্যে চলতি বছরেই ১২ ম্যাচে এসেছে ৭৯ উইকেট। অথচ গত বছর ১১ ম্যাচে পেসারদের ঝুলিতে জমা হয়েছিল মাত্র ১৮ উইকেট।

উইকেট শিকারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বাংলাদেশের পেস আক্রমণে কার্যকারিতা বৃদ্ধির ইঙ্গিতবাহী। পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা তিন সিরিজে সাফল্যের পেছনেও পেসারদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তবে আসন্ন লড়াইয়ে গতির অন্যতম প্রধান অস্ত্র নাহিদ রানাকে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের কাঁধেই থাকবে বাড়তি দায়িত্ব।

তিন দলের তুলনায় পেস বোলিংয়ের উইকেট সংগ্রহে পিছিয়ে আছে আফগানিস্তান। গত দুই বছরে দলটির পেসাররা পেয়েছেন ৩৪ উইকেট। এর মধ্যে চলতি বছর ৭ ম্যাচে ১৮টি এবং গত বছর ৬ ম্যাচে ১৬টি উইকেট এসেছে। তবে উইকেটসংখ্যাই বোলিংয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়। প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা, ইকোনমি রেট ও উইকেট নেওয়ার হারও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

আফগান পেস আক্রমণের তুরুপের তাস হতে পারেন ফজল হক ফারুকি ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ফারুকির বাঁহাতি অ্যাঙ্গেল ও নতুন বলে সুইং প্রতিপক্ষের টপ অর্ডারে প্রাথমিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। অন্যদিকে, ওমরজাইয়ের গতি, বাউন্স ও ভ্যারিয়েশন মিডল ওভারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

পেসারদের উইকেটসংগ্রহে বাংলাদেশের পরেই অবস্থান জিম্বাবুয়ের। ২০২৫ ও ২০২৬ সাল মিলিয়ে দলটির পেসাররা শিকার করেছেন ৫৮ উইকেট। এর মধ্যে চলতি বছর ৬ ওয়ানডেতে এসেছে ৩৪ উইকেট, আর গত বছর মাত্র ৫ ম্যাচে তারা পেয়েছিলেন ২৪ উইকেট। চলতি বছরে প্রতি ম্যাচে গড়ে প্রায় ৫.৭ উইকেট শিকার পেসারদের কার্যকারিতার একটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান।

জিম্বাবুয়ের পেস আক্রমণের প্রধান ভরসা রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানি। এনগারাভার বাঁহাতি বোলিংয়ের অ্যাঙ্গেল এবং মুজারাবানির উচ্চতা থেকে সৃষ্ট বাউন্স ব্যাটারদের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে। নতুন বলে উইকেট শিকার, মিডল ওভারে চাপ বজায় রাখা এবং ডেথ ওভারে নিখুঁত ইয়র্কার ও স্লোয়ার প্রয়োগ করতে পারলে জিম্বাবুয়ের পেসাররা হয়ে উঠতে পারেন ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার অন্যতম নিয়ামক।

পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পক্ষে সাক্ষ্য দিলেও আরব আমিরাতের মঞ্চে জিম্বাবুয়ের পেসারদের ধার এবং আফগানিস্তানের বৈচিত্র্যকে উপেক্ষা করার অবকাশ নেই। শেষ পর্যন্ত গতির এই দ্বৈরথে কারা প্রতিপক্ষের ব্যাটিং দুর্গে সবচেয়ে বড় আঘাত হানতে পারে, সেটিই হয়ে উঠবে দেখার বিষয়।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link