ওয়ানডেতে স্ট্রাইক রেটের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে একটা সময়। সেই শাই হোপই এখন টি-টোয়েন্টির বাইশ গজে শতরানের ফুলঝুরি ছোটাচ্ছেন! ভারত সফর যেন তাঁর ক্যারিয়ারের পুনর্জন্ম, ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্য নিয়ে ওঠা সব সংশয়ের জবাব!
সাত ইনিংসে চার সেঞ্চুরি, ৫৩৯ রান। ওয়ানডেতে ১২, ১০৪ ও অপরাজিত ১৬২! টি-টোয়েন্টিতে ৫২, অপরাজিত ১০২, ৫ ও অপরাজিত ১০২। পরিসংখ্যানের খেরোখাতায় সংখ্যাগুলো নিছক একজন ব্যাটারের বিবর্তনের জীবন্ত দলিল!
ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোপের অর্জন আরও তাৎপর্যপূর্ণ। অধিনায়ক হিসেবে বিদেশের মাটিতে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিনটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসের কীর্তি, অধিনায়ক হিসেবে একাধিক আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক শতরানের রেকর্ড তাঁকে নিয়ে গেছে নতুন উচ্চতায়। ভারতের বিপক্ষে একই সিরিজে একাধিক সেঞ্চুরি করে নিজের সামর্থ্যের নতুন প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।

ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি মানেই রানের আতশবাজি। ব্যাটিংবান্ধব উইকেট, ছোট বাউন্ডারি, দুরন্ত আউটফিল্ড, সবই ব্যাটারদের অনুকূলে। কিন্তু হোপের এই মহাকাব্য কি কেবল পিচের অনুকম্পায় রচিত? যে মানুষটি বছরের পর বছর ওয়ানডেতে রান করেছেন, তাঁর ব্যাটে যে নিপুণতার স্ফুলিঙ্গ ছিল, তা কি আজকের আবিষ্কার?
রাসেল-পোলার্ডদের মতো পেশিশক্তির প্রদর্শনী নেই তাঁর ব্যাটিংয়ে। নেই প্রতিটি বলকে গ্যালারিতে পাঠানোর দুর্দমনীয় আস্ফালন। তবু ব্যাটের নিখুঁত সংযোগ, কবজির কারুকাজ, টাইমিং আর শট নির্বাচনের মুন্সিয়ানায় অনায়াসে সীমানা অতিক্রম করেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে শক্তির চেয়ে শৈল্পিকতা বেশি, আস্ফালনের চেয়ে প্রজ্ঞার উপস্থিতি প্রবল।
রাঁচিতে ৪৫ বলে অপরাজিত ১০২, হায়দরাবাদে ৫০ বলে আরেকটি অপরাজিত শতরান। স্ট্রাইক রেট যথাক্রমে ২২৬.৬৭ ও ২০৪। যে সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে একসময় তাঁর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল, সেখানেই এখন তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান নির্ভরতা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরি করে পেছনে ফেলেছেন ক্রিস গেইলকেও!

ওয়ানডেতে ধৈর্যের প্রাচীর গড়েন, টি-টোয়েন্টিতে সেই ধৈর্যকেই আগ্রাসনের অস্ত্রে পরিণত করেন। ভারতের বিপক্ষে ৩৫৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস হোক কিংবা টি-টোয়েন্টিতে বড় লক্ষ্য তাড়ায় শতরান, দুই ক্ষেত্রেই তিনি বুঝিয়েছেন, বড় ইনিংস খেলা আর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্বর্ণালি অধ্যায় আজ অতীতের স্মৃতিচারণ। গেইল, পোলার্ড, ব্রাভোদের বিশ্বজয়ী যুগের অবসান ঘটেছে। কিন্তু অন্ধকারে আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে যাচ্ছেন কেবলই একজন শাই হোপ!










