ন্যাচারালাইজড ফুটবলাররা কীভাবে দল বদলায়?

বিশ্ব ফুটবলে নতুন দেশের প্রতিনিধিত্ব করার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করে রেখেছে।

বিশ্ব ফুটবলে নতুন দেশের প্রতিনিধিত্ব করার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করে রেখেছে। কোনো খেলোয়াড় বিদেশি নাগরিকত্ব পেয়ে অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাইলে নির্দিষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক শর্ত পূরণ করতে হয়।

​ফুটবলে ‘ডায়াসপোরা’ ও ‘ন্যাচারালাইজড’ খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। বিদেশে জন্মেও বাবা-মা বা দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানির সূত্রে নাগরিকত্ব পেলে তিনি ডায়াসপোরা বা প্রবাসী বংশোদ্ভূত।

জামাল ভূঁইয়া বা হামজা চৌধুরী এর স্পষ্ট উদাহরণ। এদের জন্য ফিফার কোনো আবাসিক শর্ত লাগে না, বংশসূত্র প্রমাণ করলেই চলে। অন্যদিকে, ন্যাচারালাইজড খেলোয়াড়দের কোনো রক্তসম্পর্ক থাকে না। তাঁরা ঘরোয়া লিগে খেলার সূত্রে বা চুক্তিতে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পান।

​অন্যদিকে, ভারতের হয়ে খেলা রায়ান উইলিয়ামস একজন ন্যাচারালাইজড ফুটবলার। যিনি দীর্ঘদিন ব্যাঙ্গালুরু এফসিতে খেলার পর অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকত্ব ছেড়ে ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।

ফিফার অনুচ্ছেদ সাত অনুযায়ী, পারিবারিক সংযোগ ছাড়া ন্যাচারালাইজড হয়ে খেলতে হলে ১৮ বছর বয়সের পর সংশ্লিষ্ট দেশে কমপক্ষে টানা পাঁচ বছর বসবাস বাধ্যতামূলক। আবার ১০ বছর বয়সের আগে গেলে তিন বছর এবং ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সের মধ্যে হলে পাঁচ বছর থাকতে হয়। এই পাঁচ বছর গণনায় প্রতি ১২ মাসে অন্তত ১৮৩ দিন দেশে উপস্থিত থাকা আবশ্যক।

​২০২১ সালে ফিফা নিয়মে কিছু নমনীয়তা আনে। অনূর্ধ্ব-২১ বয়সে কোনো দেশের হয়ে তিনটির কম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেললে দল পরিবর্তনের আবেদন করা যায়, তবে তা বিশ্বকাপ বা মহাদেশীয় ট্রফির মূল পর্বের হওয়া যাবে না। পাশাপাশি প্রথম দলের হয়ে খেলার পর ন্যূনতম তিন বছরের বিরতি এবং ফিফা ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত অনুমোদন লাগে।

২০০০ এর দশকে দ্রুত সাফল্যের আশায় বিভিন্ন দেশ হুটহাট বিদেশি খেলোয়াড়দের নাগরিকত্ব দেওয়া শুরু করলে খেলাটির ভারসাম্য ও ঐতিহ্য রক্ষায় ফিফা এসব নিয়ম কঠোর করে। বর্তমানে বহু দেশ ডায়াসপোরা ও ন্যাচারালাইজড খেলোয়াড়দের মাধ্যমে সফল হলেও ফিফার আইনি বাধা অতিক্রম করাই তাদের মূল চ্যালেঞ্জ।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link