ফুটবলেও কি সম্ভব বিপিএল ধাঁচের ফ্র‍্যাঞ্চাইজি লিগ?

বাংলাদেশেও একটি মেগা ফ্র‍্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু করা শুধু সময়ের দাবি নয়, বরং ফুটবলকে পুনরুজ্জীবিত করার একমাত্র কার্যকরী কৌশল হতে পারে।

ক্রিকেট মাঠে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) যখন কোটি টাকার স্পন্সরশিপ, উপচে পড়া গ্যালারি আর ডিজিটাল কন্টেন্টের ঝড় তোলে, তখন ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ফুটবলের  গ্যালারি থাকে প্রায় ফাঁকা। তবে গ্যালারির খালি চেয়ারগুলো ফুটবল প্রেমের অভাব নির্দেশ করে না। বরং তা প্রমাণ করে আমাদের পুরনো লীগ কাঠামোর প্রতি দর্শকের চরম অনিহা।

পাশের দেশ ভারত এক দশক আগে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) এনে দেশের পুরো ফুটবল ইকোসিস্টেম বদলে দিয়েছে, আমেরিকাও তাদের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) দিয়ে ফুটবলে বিশাল বাণিজ্য তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশেও একটি মেগা ফ্র‍্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু করা শুধু সময়ের দাবি নয়, বরং ফুটবলকে পুনরুজ্জীবিত করার একমাত্র কার্যকরী কৌশল হতে পারে।

​বাংলাদেশের ফুটবলে ফ্র‍্যাঞ্চাইজি মডেল চালু হলে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তন আসবে, তা হলো কর্পোরেট অর্থের আগমন। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপগুলো তখন শুধুই অনুদান হিসেবে টাকা দেবে না, বরং ক্লাবের মালিকানা ও ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানোর স্বার্থে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করবে। একই সাথে ঢাকা-কেন্দ্রিক ফুটবল কাঠামোর অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী কিংবা খুলনার মতো বিভাগীয় শহরভিত্তিক দল গঠন করা হলে গ্যালারিগুলোতে আবার প্রাণের সঞ্চার হবে।

শহরের মানুষ নিজেদের আঞ্চলিক দলের পরিচয় নিয়ে মাঠে আসবে, তৈরি হবে নতুন উন্মাদনা। বিশ্বমানের বিদেশী খেলোয়াড় ও কোচদের আগমনে দেশীয় তরুণ ফুটবলাররা আধুনিক ফুটবলের ছোঁয়া পাবে। এছাড়া ব্রডকাস্টিং স্বত্ব বিক্রি এবং ডিজিটাল স্পন্সরশিপের নতুন একটি বিশাল অর্থনৈতিক বাজার উন্মুক্ত হবে, যা ফুটবলকে স্বাবলম্বী শিল্পে রূপান্তর করবে।

বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ফিফা ও এএফসির প্রথাগত রেলিগেশন নিয়মের সাথে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে ভারতের আইএসএল-এর মতো প্রাথমিক একটি মডেল গ্রহণ করা যেতে পারে। বাফুফে এবং পেশাদার কোনো স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির যৌথ পরিচালনায় আটটি প্রধান বিভাগকে কেন্দ্র করে দল গঠন করা সম্ভব।

প্রথাগত প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি বছরের নির্দিষ্ট দুই-তিন মাসের একটি উইন্ডোতে এই ফ্র‍্যাঞ্চাইজি আয়োজন করা যেতে পারে। খেলোয়াড় দলবদলে স্বচ্ছতা আনতে বিপিএলের মতো প্লেয়ার ড্রাফটিং কিংবা অকশন ব্যবস্থা থাকবে, আর দলের ক্ষমতার ভারসাম্য ধরে রাখতে নির্ধারিত থাকবে স্যালারি ক্যাপ। একই সাথে বিভাগীয় স্টেডিয়ামগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে হোম-অ্যাওয়ে ম্যাচের আয়োজন করা হলে সারা দেশজুড়ে ফুটবলের এক জোয়ার সৃষ্টি হবে।

অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানের মাঠের অভাব এবং শুরুতেই কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদী লোকসান সহ্য করার মানসিকতা তৈরির মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সঠিক রোডম্যাপ, আধুনিক বিপণন কৌশল এবং বাফুফে ও বেসরকারী খাতের ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকলে এই ফ্রাঞ্চাইজি মডেলই হতে পারে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশের ফুটবলকে আবার স্বর্ণযুগে ফিরিয়ে নেওয়ার সেরা চাবিকাঠি।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link