কখনো চায়ের দোকানে রাতভর কাজ করেছেন, কখনো পরিবারের অনিচ্ছা উপেক্ষা করে অজানার পথে পা বাড়িয়েছেন। গুজরাটের জুনাগড় জেলার এক অখ্যাত গ্রাম থেকে উঠে আসা মহেশ পিথিয়ার স্বপ্ন ছিল একটাই, ভারতের জার্সি গায়ে তোলা। প্রতিকূলতার কর্কশ বাস্তবতা তাঁর স্বপ্নকে দমিয়ে রাখতে পারেনি, বরং প্রতিটি বঞ্চনাই তাঁকে করেছে আরও প্রত্যয়দীপ্ত! অথচ ক্রিকেটবিশ্ব তাঁকে চিনেছিল নিজের পরিচয়ে নয়, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের প্রতিরূপ হিসেবে। তিন বছর আগে ইনস্টাগ্রাম রিলস দেখে তাঁকে খুঁজে নিয়েছিল অস্ট্রেলীয়রা, অশ্বিনকে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে। রাতারাতি খ্যাতির আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছিলেন পিথিয়া, কিন্তু সেই আলোকচ্ছটার আড়ালেই ঢাকা পড়েছিল তাঁর স্বতন্ত্র সত্তা। প্রতিভার স্বীকৃতির চেয়ে অনুকরণের তকমাই যেন হয়ে উঠেছিল তাঁর নিয়তি।
কিন্তু সময়ের আবর্তে পিথিয়া এখন নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রাখছেন বাইশ গজে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মাত্র ২৫ ম্যাচেই ১০০ উইকেট। ২০২৩-২৪ মৌসুম থেকে অফ-স্পিনারদের মধ্যে তাঁর ৯৫ উইকেট দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। গোয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচে নয় উইকেট নিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁর বোলিং কেবল কারও ছায়ানুসরণ নয়, বরং নিরন্তর সাধনা ও শাণিত দক্ষতার ফসল। পিথিয়ার এই উত্থানের নেপথ্যে রয়েছে নিরলস অধ্যবসায়, দীর্ঘ অনুশীলন এবং লাল বলের ক্রিকেটের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা। যেখানে অনেকেই ক্ষণস্থায়ী খ্যাতির মোহে নিজেদের আবদ্ধ রাখেন, সেখানে তিনি বেছে নিয়েছেন কঠোর পরিশ্রমের বন্ধুর পথ। জাতীয় দলের দুয়ারে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা যেমন তাঁকে তাড়িত করে, তেমনি বারোদাকে রঞ্জি ট্রফির নকআউট পর্বে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ও তাঁর সংকল্পকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।

তাঁর কণ্ঠেও এখন আত্মবিশ্বাসের দৃঢ়তা, “অশ্বিনের পর যদি কেউ থাকে, সে আমি।” কথাটির মধ্যে যেমন রয়েছে উচ্চাকাঙ্ক্ষার নির্ভীক ঘোষণা, তেমনি রয়েছে নিজের সামর্থ্যের ওপর অবিচল আস্থা। অশ্বিনের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতার আকাঙ্ক্ষা পিথিয়ার মনে আজও অমলিন, তবে তাঁর অভিলাষ কেবল আদর্শের সান্নিধ্য পাওয়া নয়, নিজের কীর্তিতে স্বতন্ত্র পরিচয় নির্মাণ করা। মহেশ পিথিয়া আর ‘ডুপ্লিকেট অশ্বিন’ পরিচয়ের সংকীর্ণ পরিসরে নিজেকে আবদ্ধ রাখতে চান না। তাঁর আরাধনা অনুকরণের আবর্তে বিলীন হওয়া নয়, বরং স্বকীয় প্রতিভার দীপ্তিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।










