আইপিএল নেতাদের পতনের ঘণ্টা বাজে!

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মঞ্চে সাফল্য যেমন রাজমুকুট পরায়, ব্যর্থতা তেমনই টেনে নামায় ধুলোয়। সেই ধারাবিকতায় ২০২৬ আসরে ভাগ্যবিধাতা যেন লিখে রেখেছেন তিন নেতার বিদায়।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মঞ্চে সাফল্য যেমন রাজমুকুট পরায়, ব্যর্থতা তেমনই টেনে নামায় ধুলোয়। সেই ধারাবিকতায় ২০২৬ আসরে ভাগ্যবিধাতা যেন লিখে রেখেছেন তিন নেতার বিদায়। দিল্লি ক্যাপিটালসের অক্ষর প্যাটেল, কলকাতা নাইট রাইডার্সের  আজিঙ্কা রাহানে আর লখনৌ সুপার জায়ান্টসের ঋষাভ পান্ত, ব্যর্থতার ভারে নুইয়ে পড়া তিন অধিনায়কের বিদায় ঘণ্টা বাজছে। 

সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হয়েও ঋষাভ পান্ত লখনৌ-এর ভাগ্য ফেরাতে পারলেন না। কোটি টাকার সেই চওড়া হাসি এখন ম্লান, কারণ এবারের আসর থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিয়েছে তাঁর দল। ১১ ম্যাচে মাত্র ২৫১ রান বলে দেয় পান্তের ব্যাটে সেই চিরচেনা রুদ্রমূর্তি উধাও হয়ে গিয়েছে। নেতৃত্বের বিশাল ভার যেন তাঁর কাঁধকে নুইয়ে দিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে পুরো দলের শরীরী ভাষায়।

মাঠে পান্তকে দেখে মনে হয়েছে তিনি যেন মাথায় পাহাড় বয়ে বেড়াচ্ছেন। দুই বছর টানা প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হওয়া লখনৌ মালিকপক্ষ এখন বিকল্পের খোঁজে। যে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে মুহূর্তের ফলাফলই সব, সেখানে পান্তের ‘ক্যাপ্টেন্সি কোটা’ সম্ভবত শেষ হতে চলেছে। ব্যাটিং পজিশন অদলবদল করেও তিনি নিজেকে বা দলকে কক্ষপথে ফেরাতে পারেননি।

দিল্লি ক্যাপিটালসের ডাগআউটে এখন শুধু নিস্তব্ধতা। অক্ষর প্যাটেলের নেতৃত্বে দলটির জয় ছিনিয়ে নেওয়ার মানসিকতা যেন কর্পূরের মতো উড়ে গেছে। জেতা ম্যাচ হাতছাড়া করা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বোলিং পরিবর্তনে ভুল করা জানিয়ে দেয়, অক্ষরের অধিনায়কত্বে ধার ছিল না একদমই। ১২ ম্যাচে মোটে ৩৬ ওভার তাঁর বোলিং করাটা বুঝিয়ে দেয়, নিজের ওপর আস্থার কতটা অভাব ছিল এই অলরাউন্ডারের।

দিল্লির ম্যানেজমেন্ট অক্ষরের গতানুগতিক নেতৃত্ব নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নয়। অভিষেক পোরেলের মতো মারকুটে ব্যাটারকে বসিয়ে রাখা কিংবা সাহিল পারাখের মতো আনকোরা তরুণকে অসময়ে নামানো, এসব ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হচ্ছে দিল্লিকে। অক্ষরের প্লেয়ার হিসেবে দলে থাকা নিশ্চিত হলেও অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ডটি হয়তো আর থাকছে না।

শ্রেয়াস আইয়ারের জমানায় যারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেই কলকাতা নাইট রাইডার্স এবার রাহানের হাতে মুখ থুবড়ে পড়েছে। ৩৭ বছর বয়সী রাহানের শান্ত মেজাজ টি-টোয়েন্টির আধুনিক ঝড়ের সাথে তাল মেলাতে পারেনি। টানা ছয় ম্যাচ হার দিয়ে শুরু করা কলকাতা  এখন প্লে-অফের সব আশা হারাতে বসেছে।

 

আসলে হাতে কোনো বিকল্প না থাকায় রাহানের কাঁধে নেতৃত্বের জোয়াল তুলে দিয়েছিল কেকেআর। কিন্তু কোচ অভিষেক নায়ার আর রাহানের রণকৌশল আধুনিক ক্রিকেটের গতির কাছে পরাজিত হয়েছে। অঙকৃষ রঘুবংশীর মতো তরুণরা প্রতিভার ঝলক দেখালেও ওপেনিং জুটিতে রাহানের ধীরগতি দলকে পিছিয়ে দিয়েছে বারবার। ফলে কলকাতার সিংহাসনেও এখন বদলের হাওয়া।

খেলার মাঠ খুবই নিষ্ঠুর, এখানে আবেগ নয় বরং পরিসংখ্যান কথা বলে। পান্ত, অক্ষর আর রাহানের তিনজনেই হয়তো ব্যক্তিগতভাবে বড় নাম, কিন্তু নেতা হিসেবে তাঁদের ব্যর্থতা দলকে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে। ২০২৭-এর মেগা অকশন আসার আগেই এই তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি চাইছে নতুন কোনো কাণ্ডারি খুঁজে নিতে। মে মাসের শেষেই হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি ঘটবে আইপিএলের এই তিন অধিনায়কের অধ্যায়ের।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link